প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৭ মে, ২০২২

রুশদের হটিয়ে পুনঃদখল নিচ্ছে ইউক্রেনীয়রা

ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাদের সামরিক আগ্রাসনের প্রায় তিন মাস হতে চলল। বর্তমানে পূর্ব ইউক্রেনে তুমুল লড়াই চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের মধ্যে। ইউক্রেনীয় সেনাদের পাল্টা আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে রুশ সেনারা। কিছু অঞ্চল পুনঃদখলেও নিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রুশ সেনাদের ধাওয়া করে একেবারে রাশিয়ার সীমান্তে পৌঁছে গেছে ইউক্রেনের সেনারা। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

ইউক্রেনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক পরিসরে সামরিক অভিযান করলেও প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ রাশিয়া। উল্টো প্রথম থেকেই ধারাবাহিক সফলতা এসেছে ইউক্রেনের ঘরে। রাজধানী কিয়েভ থেকে বাধ্য হয়ে আগেই সরে যেতে হয়েছে রুশ যোদ্ধাদের। এখন খারকিভ থেকেও পিছু হটেছে রাশিয়া।

সর্বশেষ গতকাল সোমবার খারকিভ শহরটি ইউক্রেনের পুনঃদখলের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। রুশ সেনাদের হটিয়ে একেবারে রাশিয়ার সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। ডনবাস অঞ্চল ও ইজিয়ম শহরের চারপাশে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। পাল্টা আক্রমণের মুখে অস্ত্র, বিমান, ড্রোন ও সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া।

ডনবাস প্রসঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ব্যর্থ হচ্ছে এবং ডনবাস অঞ্চলে রুশ সেনাদের অগ্রগতি অনেকটাই থেমে আছে।

ন্যাটো মহাসচিব বলেন, মস্কো যেভাবে পরিকল্পনা করেছিল, সেভাবে এগোচ্ছে না ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনেস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল ডনবাস হিসেবে পরিচিত। এখানে রুশ আক্রমণের আগে থেকেই মস্কোপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে অনেক ভূখণ্ড ছিল। অভিযানের শুরুর আগে রুশপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন দুই অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘোষণা দেন পুতিন। এই ডনবাসকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চটা করছে মস্কো।

তাতে অবশ্য ইউক্রেনের যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় সামরিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে অনেক সেনা হারাচ্ছে দেশটি। এ নিয়ে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনে মোতায়েন করা পদাতিক সেনাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে ডনবাসে লড়াইয়ে সুবিধা করতে পারছে না এবং সম্ভাব্য সময়সীমা থেকে অনেকখানি পিছিয়ে রয়েছে।

পূর্ব ইউক্রেনে যখন রুশ বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে, তখন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস এমণ্ড৭৭৭ হাউইটজারও সরবরাহ করেছে, যার সুবিধা পেতে শুরু করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। পাঠানো হয়েছে আর্টিলারি। চলতি সপ্তাহে আরো সহায়তা পাঠানো হতে পারে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের রুশ নিয়ন্ত্রিত শহর ইজিয়মের চারপাশ ঘিরে লড়াই লক্ষ করা গেছে। রাশিয়া দাবি করছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইউক্রেনের অবস্থানগুলোতে আঘাত হানছে তারা। তবে ইউক্রেনের জয়েন্ট ফোর্সটাস্ক বলছে, লড়াইয়ে রবিবার তাদের সেনারা ১৭টি রুশ হামলা প্রতিহত করেছে। ১১টি রাশিয়ান সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন, দুটি হেলিকপ্টার, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাতটি ড্রোন ভূপাতিত করা গেছে।

এরমধ্যে লুহানস্ক ও ডনেস্ক অঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনায় প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে। ২৩টি গ্রাম ও শহরে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্বাধীনভাবে ইউক্রেনের এমন দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। রাশিয়া বলছে, তারা কোনো বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে না।

ইউক্রেন যদি ইজিয়ম এবং পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহের পথে চাপ অব্যাহত রাখতে পারে, তাহলে মস্কোর পক্ষে ডনবাসের ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে ফেলা কঠিন হবে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও নিজেদের কিছু ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেছে, ডনবাসের কিছু জায়গায় রুশ বাহিনী তার অগ্রগতি ধরে রেখেছে।

নতুন হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত জেলেনস্কি : ডনবাসের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার নতুন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ডনবাস নিয়ন্ত্রণে মস্কোর অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। রাতে ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ডনবাসে রুশ বাহিনীর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দখলদাররা এখনো স্বীকার করতে চায় না, তারা শেষপর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের (রাশিয়া) তথাকথিত ‘বিশেষ অভিযান’ দেউলিয়া হয়ে গেছে।

ডনবাসে সম্প্রতি হামলা জোরদার করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রুশ বাহিনী। এ নিয়ে সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স সটল্টেনবার্গ বলেন, ডনবাসে রুশ অগ্রগতি থমকে গেছে।

এ দিন ভাষণে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আবারও আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। প্রতি সপ্তাহেই যেন রাশিয়ার সঙ্গে বিশ্বের যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ে, এজন্য কাজ করতে হবে মিত্র দেশগুলোকে। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় যেন দখলদার অনুভব করতে পারে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close