গাজী শাহনেওয়াজ

  ১৭ মে, ২০২২

অনুগত দ্বৈত নাগরিকের ভোটার হতে বাধা নেই

কোনো বাঙালি ভিন দেশে নাগরিকত্ব নিলেও দেশের আনুগত্য ত্যাগের শপথ না করলে আসন্ন হালনাগাদ তালিকায় এ ক্যাটাগরিতে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে তার ভোটার হতে বাধা নেই। এ ধরনের একটা নির্দেশনা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগকারী দ্বৈত নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) লাগবে। ভোগান্তি ছাড়াই প্রবাসী বাঙালিরা যাতে সহজেই ভোটার হতে পারেন এ কারণেই এই ব্যবস্থাপনা ইসির।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ভোটার হতে যাতে একজন নাগরিক ভোগান্তি ও হয়রানির স্বীকার না হন; সেজন্য কর্মকর্তাদের প্রভুর মতো আচরণ ছেড়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশনা দেন।

আগামী ২০ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এ উপলক্ষে গত ১০ মে তথ্য সংগ্রহকারী, সুপারভাইজারসহ নিবন্ধন কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইসি। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিইসি নিজেই।

জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির ওপরে প্রবাসী বাঙালি (নাগরিক) বসবাস করছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি অংশ কর্মের প্রয়োজনে কাজ করছে। এ ছাড়া স্থায়ী বসবাস করছেন অনেক রাষ্ট্রে। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি ইত্যাদি। আসন্ন হালনাগাদ তালিকায় এসব রাষ্ট্রে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ লাগবে কী লাগবে না, তার বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

মাঠ পর্যায়ে পাঠানো এই সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, The Bangladesh Citigenship (Temporary provisions) Order, 1972 (P.0, No. 149 of 1972)-এর Article 2B (2)-তে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সময়ে সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এসআরও অথবা পরিপত্রের আলোকে যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা), নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশের নাগরিককেও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ গ্রহণ করতে হয়।

তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। এ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকরা এসব দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য শপথবাক্যে যদি বাংলাদেশের আনুগত্য প্রত্যাহারের শপথ না করে থাকে, তাহলে তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল থাকবে; এবং এসব দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণকারী নাগরিককে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রয়োজন হবে না। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

উল্লেখ্য, The Bangladesh Citizenship (Temporary provisions) Order, 1978 এর Rule 4 এর sub-rule (1A) অনুযায়ী-বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব সনদ দাখিল করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দ্বৈত নাগরিক দুই ধরনের। একজন বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পর অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিলেও দেশের আনুগত্য স্বীকার করে শপথ ত্যাগ করেননি। আর অন্য শ্রেণির মধ্যে পুরোপুরি ওই দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন দেশের স্বার্থ ত্যাগ করে। এসব প্রবাসী দ্বৈত বাঙালি নাগরিকদের এনআইডি পেতে কী ধরনের নির্দেশনা রয়েছে তা অনুসরণ করবেন নিবন্ধন কর্মকর্তারা। তবে মাঠ পর্যায়ে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেটা আরো ভালো বলতে পারবেন ইসির যুগ্ম সচিব (আইন) নুরুজ্জামান। পরে এ কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, দ্বৈত নাগরিকদের বিষয়ে সুরক্ষা বিভাগের একটি সার্কুলার আছে। যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিহার করেননি, ভোটার হওয়ার জন্য তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ লাগবে না। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েনি এটা কীভাবে বুঝা যাবে? জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়ে ভোটারকে জিজ্ঞেস করতে হবে। সে যদি হলফনামা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। যদি তারপরও সন্দেহ হয় তাহলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সুরক্ষা বিভাগে মতামত চাওয়া হবে। আর যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ নিয়ে আসতে হবে যোগ করেন তিনি। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই সচেতন থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম হাতে নেয় ইসি। সেই সময় ৯ কোটি ভোটারের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়। ইসির সর্বশেষ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ১১ কোটি ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ, ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৭ জন নারী ভোটার এবং ৪৫৪ জন হিজড়া ভোটার রয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close