বদরুল আলম মজুমদার

  ১৫ মে, ২০২২

সরকারবিরোধী আন্দোলনে কার্যকর আলোচনা শিগগির

আগামী দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এজন্য যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছেন নেতারা। এছাড়া আন্দোলনকারী দলগুলো বৃহৎ রাজনৈতিক জোট তৈরি করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে কার্যকর আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এরই মধ্যে সাতটি রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি সরকারবিরোধী মোর্চার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ মে রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের বাসায় পরবর্তী বৈঠকে বসছেন নেতারা। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে একাধিক ইসলামি দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি নেতারা। সেই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

বৃহৎ ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপির নেতারা জানান, তাদের দলের সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের অধীনে যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যাবে না এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা কেয়ারটেকার সরকারের দাবির পক্ষে থাকবেন, সেই রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে বন্ধন সংহত করা হবে। এরই মধ্যে ভেতরে ভেতরে প্রাথমিকভাবে ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বাম রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোভাব জেনে নিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

বিএনপি নেতারা বলেন, আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দৃশ্যমান আলোচনা শুরু করা হবে। সেখানে বিএনপির নেতৃত্বে যেসব রাজনৈতিক দল মঞ্চ করতে আগ্রহী হবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মঞ্চের নামকরণ করা হবে। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’ নামকরণের পক্ষে রয়েছেন কোনো কোনো নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রতিদিনের সংবাদ বলেন, বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করতে হবে। এই দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকারের নাম ঠিক করা হবে।

এদিকে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ সাতটি রাজনৈতিক দল ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামে একটি প্ল্যাটফরম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই প্ল্যাটফরমের সঙ্গে জড়িত নেতারা জানান, তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। সেখানে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন না।

দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরণে ১০ দফা দাবিসহ আগামী ২৩ মে উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক শেষে নতুন মঞ্চের আত্মপ্রকাশ করবেন তারা। এই জোটে থাকছে জেএসডি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এর মধ্য কেউ কেউ গণতান্ত্রিক বাম জোটেরও সদস্য।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আমাদের জোটের সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘গণতান্ত্রিক মঞ্চ’। তবে এখনো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। ৮ থেকে ১০টি দাবি নির্ধারণ করেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামব। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারকে সরাতে হবে। এটা খুব জরুরি। সম্মিলিতভাবে এই সরকারের পদত্যাগ ও পতন ঘটাতে চাই। এটাই এখন মূল লক্ষ্য; নির্বাচন পরে। নতুন জোট গঠন নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ জোট বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ না হলেও যুগপৎভাবে দাবি আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি দেবে।

জানতে চাইলে দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত একজন জাতীয় নেতা প্রতিবেদকে বলেন, বিএনপি নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের সিদ্ধান্ত, জামায়াত বা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো এই জোটে যুক্ত করছি না। তারা যদি পৃথকভাবে কর্মসূচি করে সে ক্ষেত্রে বাধাও দেওয়া হবে না। নব্বইয়ে পৃথক পৃথক জোট অভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে সফল হয়েছে।

বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, সাত দল পৃথক জোট গঠনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এটাকে আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন বিএনপির স্লোগান হচ্ছে ‘শেখ হাসিনার বদলে কেয়ারটেকার, ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপার।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close