প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১১ মে, ২০২২

অবৈধ মজুদ

১ লাখ ৬৬ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ

ভোজ্য তেল নিয়ে কারসাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। গতকাল দেশের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে মজুদ করা ১ লাখ ৬৬ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ৯২ হাজার লিটার ও বাগমারায় ২৭ হাজার লিটার ও গাজীপুরে ৭ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বুরে‌্যা ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি বাজার থেকে ৪৫৪ ড্রাম সয়াবিন তেল জব্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বানেশ্বর বাজারে অভিযান চালিয়ে এই সয়াবিন তেল জব্দ করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম। তিনি বলেন, ‘পাঁচটি গুদামে অভিযান চালিয়ে মোট ৪৫৪টি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। এসব ড্রামে মোট ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার সয়াবিন তেল রয়েছে।’ পুলিশ জানাচ্ছে, বানেশ্বরের ‘সরকার অ্যান্ড সন্স’ এর মালিক বিকাশ সাহার গুদামে ১৫ হাজার ৯৬ লিটার (৭৪ ব্যারেল), এন্তাজ স্টোরের মালিক এন্তাজ হাজির গুদামে ২৮ হাজার ৯৬৮ লিটার (১৪২ ব্যারেল), মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক কৈলেন পালের গুদামে ২১ হাজার ১২ লিটার (১০৩ ব্যারেল), রিয়া স্টোরের মালিক রাজিব সাহার গুদামে ১৫ হাজার ৩০০ লিটার (৭৫ ব্যারেল) তেল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া একটি ট্রাক থেকে ১২ হাজার ২৪০ লিটার (৬০ ব্যারেল) ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।

ইফতেখায়ের আলম বলেন, এই চার ব্যবসায়ীর কেউই ডিলার না। অবৈধভাবে মজুদ করেছেন তারা। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাগজপত্র যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর রাজশাহী মহানগরীতে তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পৌনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারের দুইটি গোডাউন থেকে প্রায় ২৭ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ শেষে ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় সেখানকার দুইটি গোডাউন সিল করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, সয়াবিন তেল নিয়ে কারসাজির অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে তিন ব্যবসায়ীকে পৌনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী ও সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফের নেতৃত্বে মঙ্গলবার মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়। পরে জরিমানাকৃত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহানগরীর সাহেববাজার ও বহরমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার মেসার্স হুমায়ুন স্টোরে ১৩২ বোতল সয়াবিন তেল মজুদ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে জব্দকৃত ১৩২ বোতল সয়াবিন তেল নির্ধারিত দামে বিক্রি করে ওই ব্যবসায়ীকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রির দায়ে সাহেববাজার এলাকার মেসার্স পাপ্পু অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিকের নাম নজরুল ইসলাম। এরপর নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি মূল্যে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রির অপরাধে মহানগরীর সিটি বাইপাস বহরমপুর মোড় এলাকার মেসার্স নুরুন্নবি ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক নুরুন্নবী। আর জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী।

এদিকে, সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারের দুইটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৭ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সয়াবিন তেল প্রায় ২০ হাজার লিটার এবং বাকিগুলো সরিষার তেল। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তেলের মালিক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম স্বপনকে (৪০)। তিনি চেওখালি গ্রামের ইসমাইল সাজির ছেলে। অভিযানের সময় স্বপনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম কৌশলে পালিয়ে গেছে। জব্দকৃত তেলের মধ্যে ১৯ হাজার ১৭৬ লিটার সয়াবিন ও ৭ হাজার ৫৪৮ লিটার সরিষার তেল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গাজীপুর ও টঙ্গী : গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অধিক মূল্যে তেল বিক্রি ও প্রতিশ্রুত পণ্য যথাযথভাবে প্রদান না করার অভিযোগে দুটি তেলের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় প্রায় দুটি তেলের গোডাউন থেকে ৭ হাজার ১৬৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ এবং গোডাউন দুটির মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার থেকে পৌনে ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নেতৃত্ব দেন ঢাকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান ও গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মন্ডল। তিনি জানান, অধিক মুনাফা লাভের জন্য বোর্ডবাজারের মনির জেনারেল স্টোর ও আরপি ট্রেডার্স গোপনে অবৈধভাবে সয়াবিন তেল মজুদ করেন- এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে দোকান দুটির গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মনির জেনারেল স্টোরের গোডাউন থেকে বসুন্ধরা ও সান কোম্পানির মোট ২ হাজার ৫৮ লিটার ও আরপি ট্রেডার্স থেকে ৫ হাজার ১১০ লিটার সয়াবিন তেল মুজদ পাওয়া যায়। পরে এসব তেল আগের মূল্যে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে মাইকিং করে তাৎক্ষণিক বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মনির জেনারেল স্টোরের গোডাউনে মজুদকৃত তেলের বোতলে আগের এমআরপিযুক্ত ল্যাবেল অনুযায়ী ১ লিটারের বোতল ১৬০ টাকা, ২ লিটারের বোতল ৩১৮ টাকা ও ৫ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে তেল বিক্রির এ সংবাদে দোকান দুটির সামনে সাধারণ ক্রেতারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

অপরদিকে আরপি ট্রেডার্সের দোকানে উপস্থিত থেকে প্রতি লিটার খোলা তেল আগের চালান অনুযায়ী ১৪৩ টাকা লিটার দরে বিক্রয় করা হয়। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close