শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

  ২১ জানুয়ারি, ২০২২

অনশন ভাঙাতে চেষ্টা শিক্ষার্থীদের না

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার বিকাল ৩টা থেকে অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। বর্তমানে অনশনরতদের মধ্যে ১৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৯ জনকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে অনশনরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজল দাস অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার রাতে বাংলা বিভাগের মোজাম্মেল হক ও সমাজকর্ম বিভাগের দীপান্বিতা বৃষ্টি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অনশনরত শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান অপূর্ব বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমাদের টলাতে পারবে না। কোনো ধরনের খাবারও গ্রহণ করব না।’

এদিকে উপাচার্যকে অপসারণে কোনো ধরনের তদন্ত কমিটি চান না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার জন্য উপাচার্যকেই দুষছেন তারা। গতকাল অনশনস্থলে সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের কাছে স্পষ্ট যে উপাচার্যের মদদেই পুলিশ হামলা করেছে। আমরা তাই উপাচার্যের অপসারণ চাই। উপাচার্যকে অপসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্রপতি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করুক তা আমরা চাই না।

অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।

এ সময় অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দেন। ক্যাম্পাসে যাতে আর এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ব্যাপারে আলোচনা করে সমাধানে যেতে চান তিনি। শিক্ষার্থীরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এখন আর আলোচনায় বসার সুযোগ নেই। যে উপাচার্য পুলিশকে গুলি করার অনুমতি দেন তিনি আর এই পদে থাকার অধিকার রাখেন না।

বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল প্রভোস্ট বডির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত রবিবার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

তাকে উদ্ধার করতে হলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close