বদরুল আলম মজুমদার ও জিয়াউদ্দিন রাজু

  ১১ জানুয়ারি, ২০২২

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন

বাগ্‌যুদ্ধের মেয়র নির্বাচন

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সঙ্গে আছে দুই প্রার্থীর বাগ্‌যুদ্ধ। নারায়ণগঞ্জ সিটির এবারের নির্বাচনে তৃতীয় একটি নাম এখন সবার মুখে মুখে। তিনি হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তার নিজের দলের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছেন। অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার এর মধ্যে বলেছেন তিনি এখন কোনো দলের না। কারো সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন করছেন না। তবে নির্বাচনের মাঠে গুঞ্জন আছে বিএনপি নারায়ণগঞ্জে এই মেয়র নির্বাচন বর্জন করলেও তৈমূরকে নিজের লোক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তিনি ভোটারদের কাছে গণ্য হচ্ছে বিএনপির প্রক্সি হিসেবে। এ দিকে আইভী প্রকাশ্যে শামীম ওসমান ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে কথা বললেও কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, ভোটের মাঠে দলীয় কোনো বিভাজন নেই। নির্বাচনের দিন নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে সাধারণ ভোটাররা। তবে নেতারা কেউই শামীম ওসমানের পরিবারের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো কথা বলছেন না। তবে সিটি নির্বাচন সমন্বয়কারীর পক্ষ থেকে দলীয় নেতাদের কড়া সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শামীম ওসমানের অনুসারী নেতাদের রাখা হয়েছে কড়া নজরদারিতে।

এ দিকে শামীম ওসমান গতকাল বলেছেন, কোনো দল-মতের কারণে আমি রাজনীতিতে আসিনি। রাজনীতি করতে এসেছি জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে। রাজনীতি করতে এসেছি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে। আমি নৌকার বিরুদ্ধে না, নৌকা প্রতীক আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা প্রতীক।

এ দিকে নায়ারণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভী তা মানছেন না। তিনি শামীম পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন। সম্প্রতি আইভী গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ওনাকে (শামীম ওসমানকে) গডফাদার উপাধি দেইনি। এটা ওনার বিগত ৩০ বছরের উপাধি।’

নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবার লক্ষাধিক ভোটে জয়লাভ করবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরাসরি অংশ না নিলেও নির্বাচনী মাঠে আছে বিএনপি।

দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, বিএনপি থেকে নিজের বহিষ্কারকে মোক্ষমভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তৈমূর। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারের বিরুদ্ধে কিছুই বলছেন না, আবার প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বক্তব্যও দিয়ে যাচ্ছেন। এর সুফলও পাচ্ছেন তৈমূর। নির্বাচনী প্রচারণায় এখন পর্যন্ত কোথায় বাধার সম্মুখীন হননি তিনি।

নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনে তৈমূরের অতীতটা খুব বেশি সুখকর নয়। প্রথমবার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে এক ধরনের বলি দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করেন দলীয় নেতারা। তাই এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটির ভোটে ফের আলোচনায় সেই তৈমূর। ভোটের মাঠে ‘হাতি’ নিয়ে কৌশলে হাঁটছেন তিনি। ভোটের মাঠে তৈমূর আসলে কার প্রার্থী সেটা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা, আছে মতভেদ। তবে ভোটাররা তাকে বিএনপির পক্সি প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।

পৌর চেয়ারম্যান এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আইভী টানা ১৯ বছর ক্ষমতায়। ভোটের লড়াইকে আওয়ামী লীগণ্ডবিএনপির যুদ্ধে রূপ না দেওয়ারও কৌশল নিয়েছেন তৈমূর। তাই একবারও নিজেকে বিএনপির প্রার্থী বলছেন না।

নিজেকে আবারও জনতার প্রার্থী ঘোষণা করে তৈমূর দাবি করেন, ওসমান পরিবারের দুই এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের হয়ে নির্বাচনে নামার প্রয়োজন তার নেই। তিনি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটেন না। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমালোচনায় মুখর হলেও সরকার, জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কে একটি শব্দও খরচা করেননি তৈমূর। বরং তিনি নাগরিকসেবা আরো সহজ ও কম খরচে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল হাতি প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট। তিনি জানান, মামলা ও অসুস্থতার কারণে বিএনপির অল্প কয়েকজন নেতা ভোটের প্রচারে নামতে পারেননি। বাকি সবাই সর্বাত্মকভাবে রয়েছেন। তৈমূর প্রার্থী হওয়ার পর বিএনপি তাকে জেলা আহ্বায়কের পদ থেকে প্রত্যাহার করেছে। এ টি এম কামালের দাবি, দলের কেন্দ্রের তরফ থেকে তৈমূরের ভোটের প্রচারে অংশ নিতে নিষেধাজ্ঞা নেই।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close