গাজী শাহনেওয়াজ

  ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১

দুর্নীতি করে ৪১ হাজার ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৪১ হাজার ল্যাপটপ কিনতে দুর্নীতির পথ খুঁজছে সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মকে বেছে নিয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। জানা গেছে, অনিয়ম করে যাতে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজটি গুচিয়ে দিতে পারেন- এ নিয়েও তৎপরতার শেষ নেই নীতিনির্ধারকদের। তাদের এই আচরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দরপত্রের কার্যাদেশ দেওয়ার আগে দরপত্রের প্রয়োজনীয় শর্ত ও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই চায় সংক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বরাবর এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কম্পিটার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ফ্লোরা লিমিটেড।

আবেদন পর্যালোচনায় পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, সরকারের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারে ৪১ হাজার ল্যাপটপ ক্রয়ের জন্য চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি (স্মারক নং ৩৮.০১.০০০০.০০৫.০৭.২৩৬.২০২০-৫২৪) ও ১৯ জানুয়ারি (৩৮.০১.০০০০.০০৫.০৭.২৩৯.২০২০-৫৪৭;) দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে কিছু লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে ফ্লোরা লিমিটেড। তবে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা কোম্পানিটি (ওয়ালটন ডিজিটাল লিমিটেড) দরপত্র দাখিলের সব নিয়ম না মেনে মিথ্যা তথ্যসহ দরপত্র দাখিল করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর আগেও কোম্পানি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একই দরপত্রে এ ধরনের অনিয়মের কারণে সেটি অকার্যকর হয়েছিল। এমনকি এর আগে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে দরপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির এ ধরনের অনিয়মের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়।

অভিযোগ উঠেছিল, অভিযুক্ত ওয়ালটন ডিজিটাল লিমিটেড কোম্পানির সুনির্দিষ্টভাবে প্রযুক্তিগত আইটেম ২৪ নম্বর (এমআইএলটি এসটিডি ৮১০ গ্রাম সার্টিফিকেট) এবং ৩১ নম্বর (এফসিসিক্লাস-বি সার্টিফিকেট) সম্পর্কিত যেসব তথ্য জমা দিয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। কোম্পানিটির কাছে এ ধরনের কোনো সার্টিফিকেট বা প্রশংসাপত্র নেই। আর আহ্বান করা দরপত্রে ক্রয়কৃত পণ্যটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান সম্পন্ন ব্র্যান্ডের হতে হবে বলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। যেখানে সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়ালটন ডিজিটাল লিমিটেড কোম্পানির আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্র্যান্ড হিসেবে কোনো প্রমাণপত্র নেই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফ্লোরা লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক জোবায়ের হোসেন তালুকদার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগের ক্ষেত্রে ওয়ালটন ডিজিটেক লিমিটেডকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পিপিআর ২০০৮ এরবিধি ৮৩(২)(ক) অনুযায়ী ডোমেস্টিক প্রিপারেন্স বা অগ্রাধিকার দিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সুপারিশ করে। এর জন্য দরপত্র অনুযায়ী এক্স ওয়ার্ক মূল্যের ৩০ শতাংশের অধিক শ্রম, কাঁচামাল ও উপকরণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোগান থাকতে হবে। তবে ওয়ালটন ডিজিটেকের সেই অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ভুয়া সার্টিফিকেট ও কাগজপত্র দিয়ে একটি খুব সাধারণ মানসম্পন্ন কোম্পানি হয়েও ওয়ালটন ডিজিটাল লিমিটেড কেবল সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এই ৪১ হাজার ল্যাপটপের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) পাওয়াটা হবে যেমন অপ্রত্যাশিত, অন্যদিকে সরকারি ক্রয় বিধি পিপিআর ২০০৮ এর সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাই অভিযোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে কার্যাদেশ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে দরপত্র পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কাজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা পণ্যগুলো যাতে সঠিক মানসম্মত ও সাশ্রয়ী হয় সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহের হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া সতর্কবার্তা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ নিয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনাসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close