প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১

এগিয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’, সাগরে সংকেত বাড়ল

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূলের কাছাকাছি এগিয়ে এসেছে। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ আগের মতোই ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে নদীবন্দরগুলোকে আগের মতো ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, ঝড়ের গতিপথ এখন ভারতের দিকে। সেখানে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বলতে বোঝায়, বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলো দুর্যোগকবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেমে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমণ্ডমধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্যও বলা হলো।

আরো বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল এবং পটুয়াখালী অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটির একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সকালের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও হাওয়ার তেজ বাড়ছে। রবিবার দুপুর বা বিকালের দিকে ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা ‘জাওয়াদ’-এর। রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল এলাকা দীঘায় সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্রও। একদিকে ‘জাওয়াদ’-এর প্রভাব, অন্যদিকে ভরা কটাল- এই দুয়ের প্রভাবে পরিস্থিতি যে বিগড়াতে পারে তারই আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close