নিজস্ব প্রতিবেদক ও নীলফামারী প্রতিনিধি

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২১

নীলফামারীতে অভিযানে গ্রেপ্তার ৫

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের

নীলফামারীতে গ্রেপ্তার জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যদের আদালত চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। তবে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। গোপন সংবাদ পেয়ে জেএমবির রংপুর অঞ্চলের সামরিক প্রধান আহিদুল ইসলামসহ পাঁচজন আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য, পিস্তল, ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। গতকাল শনিবার বিকালে রংপুর র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এর আগে শুক্রবার রাত থেকে নীলফামারী সদরের মাঝাপাড়ার একটি বাড়ি ঘিরে গতকাল দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে ওই বাড়ি থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার পাঁচজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সদস্য। গ্রেপ্তাররা হলো- নীলফামারী উত্তর মুশরত কুখাপাড়ার আহিদুল ওরফে আহিদ ওরফে পলাশ (২৬), কুচিয়ামোড় পাঠানপাড়া এলাকার ওয়াহেদ আলী ওরফে আবদুর রহমান (৩০), দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা (২৬), উত্তর মুশরত কুখাপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের (২৭) ও সোনারাই কাচারিপাড়া এলাকার নূর আমিন ওরফে সবুজ (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার জঙ্গিরা জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। সামরিক শাখার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ও আইইডি তৈরির অনুশীলন করছিলেন। দু-তিন মাস আগে গ্রেপ্তার আহিদুলের বাড়িতে আইইডি তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে বাড়িতে আগুন ধরে যায়। তারা ইন্টারনেট দেখে বোমা তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ লব্ধ করে। জেলখানায় বন্দি শীর্ষ জঙ্গিদের আদালতে আনা-নেওয়ার পথে হামলা চালিয়ে তাদের মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তাদের মাধ্যমে শ্রমিক, অটোরিকশাচালক, টেইলারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০ থেকে ২৫ জনকে জঙ্গি সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার আহিদুল খেলনা প্রস্তুতকারী কোম্পানির কোয়ালিটি চেকার চাকরির আড়ালে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। গ্রেপ্তার আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে ডা. সুজা একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন এমএটিএস। গ্রেপ্তার জাহিদুল খেলনা তৈরি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার। তিনি দাখিল পাস। নূর আমিন বেসরকারি চাকরিজীবী। শিক্ষাগত যোগ্যতা আলিম পর্যন্ত। অন্যরাও বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close