নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলেই খালেদা জিয়া দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন। কিন্তু বিএনপি তা না করে রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ইস্যু করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামি দেশের বাইরে যেতে পারবে না। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট-বোয়াফ আয়োজিত ‘বিশ্ব সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও হলি আর্টিজান-মুম্বাই হামলা’ নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিনি। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়েই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। মহান স্বাধীনতার ওপর আঘাত মুক্তিযুদ্ধের পরেই আনা হয়। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়েই এর চূড়ান্ত রূপ পাই। পরে যারা ক্ষমতায় আসে, সেই

অপশক্তিকেই তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানের দোসরদের গাড়িতে তারা বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছিল।’

হানিফ বলেন, ‘জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটা বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ধারাবাহিকতা আমরা দেখেছি, হলি আর্টিজান হামলার মধ্য দিয়ে। ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকেই তারা এটা ঘটিয়েছিল। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাওয়া ভবনে বসে রাষ্ট্রের ওপর জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তারা ২৪ জনকে হত্যা করেছিল। ২০০৫ সালে ১৭ আগস্টে সিরিজ বোমা হামলা আমরা দেখেছি। সারা দেশে হামলা চালিয়ে দেশে জঙ্গিদের একটা শক্ত অবস্থান তারা জানান দিয়েছিল। আমরা দেখেছি, বাংলা ভাই প্রকাশ্যে তার এলাকায় মিছিল করেছিল। বিএনপি জোটের মদদেই এটা ঘটেছিল।’

এদিকে, আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, প্রয়োজনে আইনের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিতে পারে সরকার। সরকার এরই মধ্যে খালেদা জিয়াকে বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন বিদেশে যেতে চাইলে তাকে আইনি পথ মোকাবিলা করেই যেতে হবে। খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। ফলে তার কাছেই আবেদন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করলে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান। এই মামলাগুলো যেন বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে বাধা না হয়, সে বিষয়টি দেখবে সরকার।

গত মঙ্গলবার আইনমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তারা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ প্রয়োগে রাষ্ট্রপতিকে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেন। ৪৯ অনুচ্ছেদের বলে রাষ্ট্রপতি কোনো দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা মাফ করতে পারেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, এ রকম সুযোগ পেতে রাষ্ট্রপতির কাছে দোষ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হয়। ফলে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে যদি সত্যিই বিদেশে পাঠাতে চান; তাহলে আইনজীবীরা নয়, দণ্ডিত ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যদের আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছাতে হবে। এটি করলেই আইনি পথ খুলতে শুরু করবে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বিএনপির আইনজীবীরা তাদের আবেদনে কৌশলে সাজা বাতিলের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি আদালতের সাজা বাতিল করতে পারেন না। তিনি সাজা মওকুফ করতে পারেন। জেনে-বুঝে এমন আবেদন করা বিএনপির আইনজীবীদের একটি রাজনৈতিক কৌশল।

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার গলা টিপে মারছে না। এখানে বিষয়টা আইনগত। মানবিক বিষয়টাও আছে। প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিকটা বিবেচনা করছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, বিএনপি নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে চায়। কিন্তু আইনি পথে তারা যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, রাষ্ট্রপতির বিশেষ আনুকূল্যে দণ্ডিত ব্যক্তির বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা হতে পারে। বিএনপির বিজ্ঞ আইনজীবীরা এটা ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু তারা সে পথে না হেঁটে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে রাজনৈতিক খেলায় মত্ত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, বিএনপির আইনজীবীরা রাষ্ট্রপতির কাছে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিলের আবেদন করেছেন। এটা গ্রহণযোগ্য হবে না। রাষ্ট্রপতির কাছে দোষ স্বীকার করে সাজা মওকুফের আবেদন করতে হয়। এ আবেদন দণ্ডিত ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা করতে পারেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close