হাসান ইমন

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

তেলের প্রভাব বাজারে

জ্বালানি তেলের দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। এরই মধ্যে ট্রাকভাড়া ভাড়ায় বেড়েছে চালের দাম। খোলাবাজারে চাল প্রতি কেজি দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক মাসে দেশে প্রচুর পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি শুল্কও কমানো হয়েছে। চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে হ্রাসের পাশাপাশি সরকারি গুদামগুলোয় রেকর্ড পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। তার পরও দেশের বাজারে চালের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া তেল, চিনি, ডালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম না বাড়লেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলাবাজারে চাল প্রতি কেজি দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল আনতে ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে গড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। ডিজেলের দাম বাড়ানোর আগে ট্রাকভাড়া ছিল ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এখন গুনতে হচ্ছে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ হিসাবে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। আর কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে দুই টাকা। একই প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এর প্রভাবেই বেড়েছে চিকন-মোটা সব চালের দাম। জ্বালানির প্রভাবে চাল পরিবহন খরচ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। ডিজেলের দাম না বাড়লে আমনের এই মৌসুমে পাইকারি ও মিলপর্যায়ে কেজিতে চালের দাম ৫০ থেকে ৬০ পয়সা কমত। কিন্তু এবার তা কমছে না।

রাজধানীর খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। বাজারে সাধারণ মানের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। এ ছাড়া আঠাশ ৪৫ থেকে ৫০, কাজললতা ৫২ থেকে ৫৪, পাইজাম ৫২ থেকে ৪৫, গুটি স্বর্ণা ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি

দরে বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাবুবাজার চালের পাইকারি ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আগে ট্রাকভাড়া ছিল ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এখন তা ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা। এ হিসেবে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। আর কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে দুই থেকে চার টাকা। একই কারণে প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

বাদামতলী-বাবুবাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, ডিজেলের দাম বাড়ার পরে জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, কুষ্টিয়ার বড় মোকাম থেকে ঢাকায় ট্রাকের ভাড়া এরই মধ্যে কমপক্ষে তিন থেকে চার হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে চালের দামে। এই দাম কমার সম্ভাবনা আছে বলে তো মনে হয় না।

এদিকে চালের দাম বাড়লেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তেল, ডাল, চিনিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। সপ্তাহ দু-এক আগে হয়েছে ১৩৬ থেকে ১৪০ টাকা। আর খোলা পাম তেল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা লিটার। আগে ১২৮ থেকে ১৩২ টাকা ছিল। এ ছাড়া দেশে চিনির দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা কমে ৭৬-৭৮ টাকা হলেও বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে তিন টাকা বেশি। ট্রেড ইকোনমির তথ্য মতে, গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ।

তবে গমের দাম বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী দেশের বাজারে খুচরায় আটা-ময়দার দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে তিন টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগের ৩৩ থেকে ৩৫ টাকার খোলা আটা এখন ৩৪ থেকে ৩৮ টাকা কেজি। সপ্তাহখানেক আগের ৪৩ থেকে ৪৫ টাকার খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। মসুর ডালের দাম স্থির রয়েছে আগের বাড়তি দাম ৮৬ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারগুলোতে যেভাবে দাম রাখা হচ্ছে আমরা সেভাবেই বিক্রি করছি। পাইকারি বাজারগুলোতে কোনো কিছুর দামই সেভাবে কমেনি।

তবে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ মসলাজাতীয় পণ্য ও শাকসবজির দাম কমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এসব পণ্য খুব একটা আমদানি করতে হচ্ছে না। তাই দামও কমে আসছে। মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা আবদুল মতিন বলেন, নতুন ফসল উঠছে। এতে আগের স্টক করা পণ্যগুলো বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই দাম কমে আসছে।

খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। দেশি রসুন ৫০ থেকে ৭০, আদা ৭০ থেকে ১০০ ও আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে কাঁচা টমেটো ৪০ থেকে ৫০, পাকা টমেটো ১০০ থেকে ১১০, ভালো মানের গাজর ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close