নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

সিআইডির নজরদারিতে ৩০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান

দেশে সম্প্রতি ইভ্যালিসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনার পর কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে প্রতারণা রোধে ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই মধ্যে ব্যবসার আড়ালে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ, অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমন ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে রেখেছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইমাম হোসেন এই তথ্য জানান। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা আমরা করেছি। সেখানে ৬০টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে আমরা ৩০ বা ৩২টির মতো প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে রেখেছি। যারা বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মূলত গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইমাম হোসেন বলেন, ‘অনেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য কিনেছেন। কিন্তু তারা দিনের পর দিন ঘুরেছেন, পণ্য পাননি। এসব মানুষ থানায় গিয়ে মামলা করেছেন। ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে।’

এর আগে গত ৩০ জুন ধামাকা শপিংয়ের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। পরে কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়। সে সময় শুধু ধামাকা শপিংই নয়, আলিশা মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, কিউকম, দালাল প্লাস, ই-অরেঞ্জ এবং বাজাজ কালেকশনসহ ১১টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ।

সম্প্রতি সিআইডি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানি নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডিএ উদ্যোগ নেয়। সিআইডির চিঠির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও (বিএফআইইউ) অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতে গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে ‘অস্বাভাবিক’ সব অফার দেয়। পরে দেখা যায়, অগ্রিম অর্থ নিলেও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তারা সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ পণ্যের টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে তারা পণ্য পাচ্ছেন না। অপরদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য সরবরাহকারী বা মার্চেন্টরা বলছেন, দিনের পর দিন তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না।

দেশে সম্প্রতি ইভ্যালিসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং গ্রাহক-মার্চেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করাসহ উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close