গাজী শাহনেওয়াজ

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

নতুন ইসির প্রথম চ্যালেঞ্জ

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হবে। আসবে নতুন কমিশন। এই কমিশনের কাজও শুরু হবে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই। জেলা পরিষদ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পাশাপাশি প্রস্তুতি নিতে হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের।

ইসি সূত্র মতে, আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে ৬৪ জেলা পরিষদের। বর্তমান কমিশন বিদায়ের আগে এই নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন আয়োজনের কোনো অনুরোধ জানিয়ে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কমিশনকে চিঠি পাঠায়নি। তাই এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ নেই কে এম নুরুল হুদা কমিশনের। এমনকি কুমিল্লা সিটি নির্বাচন করার ইচ্ছাও সময়ের অভাবে পূরণ হচ্ছে না তার। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউপির নির্বাচিত (চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার) জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। ইউপির নির্বাচন শেষ না হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে এ নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়নি।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েও স্থগিত রাখতে হয়। সম্প্রতি দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৮টি ইউপির তফসিল দেয় কমিশন। আগামী ১১ নভেম্বর এসব ইউপিতে ভোট হবে। এরপরই পরবর্তী ধাপের ভোটের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন মহলের নানা অনুরোধ ও রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্বাচন পেছাতে পেছাতে এখন খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে ইসি।

বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার গ্যাপ বিবেচনায় আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় ধাপের ১ হাজারের বেশি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে। পরবর্তী ধাপের ইউপির নির্বাচন করতে কিছুটা সময় নেবে কমিশন। আর ডিসেম্বরের মধ্যে সব ইউপির ভোট শেষ করবে কমিশন।

এদিকে, জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনে চিঠি না পেলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার জন্য চিঠি দিয়ে তাগিদ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই সিটির নির্বাচন হবে ইউপির পর। বর্তমান কমিশনের লক্ষ্য মধ্য জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মযজ্ঞ শেষ করা। এর পর ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় রুটিন ওয়ার্ক সম্পাদনের মধ্যে বর্তমান কমিশন তাদের দায়িত্বের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করবে।

নির্বাচনী পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় ধাপের ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপের তফসিল যখনই ঘোষণা করা হোক কমিশনের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। আর জেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হলেও এই কমিশন নির্বাচন করতে পারছে না। কারণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এখনও পত্র দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানায়নি। তবে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের জন্য চিঠি পেয়েছি। এই নির্বাচনটি করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের তথ্য অনুযায়ী প্রত্যেকটি জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কমবেশি তিন হাজার সদস্য থাকেন। নির্বাচনে ওই সদস্যরাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। ওই সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দুটি থেকে সর্বোচ্চ তিনটি উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ভোট করা যায়। ওই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে কোনো উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ কোন ধাপে রাখা হলে ভালো হয়, সে মতামতও নেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার সময়ে সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, নতুন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান সরগরম। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন হবে নতুন কমিশন। এরই মধ্যে সিইসি ও কমিশনার পদে আসীন হতে সচেষ্ট রয়েছেন সাবেক অনেক আমলা, সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া ব্যক্তি, বিচার বিভাগের সাবেক আমলা এবং সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাও। পাঁচ সদস্যের কমিশন হবে এবারও। এ তালিকায় ইসিতে চাকরি করে যাওয়া ও ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারাও চেষ্টা করছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close