নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শেখ হাসিনা : অনার্জিত স্বপ্নপূরণের সারথি

শেখ হাসিনা; একটি নাম, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অনার্জিত স্বপ্নপূরণের সারথি। ক্রান্তিলগ্নে বাঙালি জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশকে গৌরবের আসনে সমাসীন করেছেন। তার অসাম্প্রদায়িক, উদার, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে দিয়েছে এক আধুনিক ও অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বাংলার স্বাধীনতা ও বিশ্ব দরবারে বাঙালির মাথা উঁচু করা, সোনার বাংলা গড়ে তোলা। তার সেই স্বপ্নপূরণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা।

বাংলার মানুষের আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। পিতা শেখ মুজিব তখন কলকাতায় ভারত ভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দাঙ্গা প্রতিরোধ এবং লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। তাই জন্মের পর দাদা ও দাদির স্নেহ-আশীর্বাদ নিয়ে শুরু হয় শেখ হাসিনার জীবন।

ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় তিনি সবার কাছে প্রিয় এবং বাংলার মানুষের অতি আপনজন। তাই আজ আমাদের কাছে গর্বের বিষয় শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে জনগণের কাছে নন্দিত। তিনি জনমানুষের নেতা। ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনা শেখ হাসিনার জীবনে অনেক বড় বেদনাদায়ক ঘটনা, এক গভীরতম ট্র্যাজেডি। এই শোক তাকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে শক্তি দিয়েছে, করে তুলেছে আরো দায়িত্বশীল।

স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছর; বঙ্গবন্ধু মহাব্যস্ত একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে। এ সময়টায় পাশে থেকে তাকে সহযোগিতা করেন বাঙালির স্বপ্নজয়ের সারথি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা। এর মাঝে জার্মানিতে অবস্থান করা স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার কাছে যান শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

তাই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে স্বাধীনতাবিরোধী ও ক্ষমতালিপ্সুদের ভয়াবহ আক্রমণ থেকে রক্ষা পান তারা। কিন্তু নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয় জাতির পিতা শেখ মুজিবসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ঘাতকের বুলেট রেহাই দেয়নি ১০ বছরের ছোট্ট শিশু রাসেলকে। জাতির জন্য চির লজ্জার ও গ্লানির। ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় ওই ঘটনা।

স্বভাবতই এ ঘটনা শেখ হাসিনার জীবনে সবচেয়ে বড় বেদনাদায়ক ও গভীরতম ট্র্যাজেডি। ওইদিন যেসব লোভী ও বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত মেখে নিজেরা হয়েছিল ঘাতক ও খুনি; তাদের সেই ভিত সেদিন শক্ত হতে পারেনি। চরিতার্থ করতে পারেনি তাদের পাপী হৃদয়ের লালসা।

খুনি মোশতাকরা বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের উচ্ছিষ্টভোগী লোভীরা কেউ কেউ তলে তলে তাদেরই সমর্থন করে গেছে। ক্যুণ্ডপাল্টা ক্যু ও হত্যা এবং অস্ত্রের ঝনঝনানিতে তারা ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেছিল। দেশজুড়ে কায়েম করা হচ্ছিল দুর্নীতি ও দুঃশাসনের রাজত্ব।

একইসঙ্গে ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করে মোশতাক ও তার দোসররা। পাশাপাশি খুনিদের বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়। পুনর্বাসন করা হয় রাজনৈতিকভাবেও।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল সংকটময়। সংশয় প্রতিহিংসা-দমনপীড়ন ও শোষণে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। কাণ্ডারিহীন ‘নৌকা’য় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। এর মাঝে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়; সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে প্রবাসে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি করা হয়।

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের পর টানা ছয় বছর তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। মুজিবহীন বাংলাদেশে তাকে পেয়ে যেন দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করল। শেখ হাসিনার এই ফিরে আসা ছিল গণতন্ত্রের ফিরে আসা, দেশের উন্নয়ন ও প্রগতি এবং আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানায় লাখো জনতা। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনের সংবর্ধনায় লাখো মানুষের ভালোবাসায় সেদিন শেখ হাসিনা খুঁজে পেয়েছিলেন পিতৃশোকের সান্ত্বনা, মা হারানোর বেদনায় প্রলেপ। আপামর মানুষের মাঝেই তিনি খুঁজে পান হারানো পিতা-মাতা, ভাইসহ স্বজনদের ভালোবাসা। তখন থেকেই তার ধ্যান-জ্ঞান একটাই, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বিশ্ব দরবারে বাঙালিকে একটি উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার। তার সেই প্রত্যয় আর দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশ এখন সমৃদ্ধির পথে সাবলীল গতিতে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ এখন উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রার সারথি তিনি। জয়তু শেখ হাসিনা। শুভ জন্মদিন।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close