প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

তালেবান সরকারে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

এক মাস হয়েছে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করেছে তালেবান। আর সরকার গঠন মাত্র এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তাদের অভ্যন্তরীণ চরম কোন্দল। দ্বন্দ্বের জের ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মঙ্গলবার রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ পর্যন্ত হয়েছে। এরই মধ্যে শীর্ষপর্যায়ের দুই নেতারও হদিস মিলছে না বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তালেবান দেশটিকে ‘ইসলামিক আমিরাত’ ঘোষণা করে গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা গঠন করে। তাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তালেবানের শীর্ষনেতাদের পাশাপাশি হাক্কানি নেটওয়ার্কের জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও জায়গা দেওয়া হয়েছে। তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোস্টওয়ান্টেড তকমাও রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো দেশ তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও এর মধ্যেই নতুন সরকারের গঠন নিয়ে গোষ্ঠীর নেতাদের মধ্যে চরম কোন্দল হওয়ার খবর প্রকাশ পেল। মূলত নতুন সরকারের পদ-পদবি নিয়ে এ

দ্বন্দ্ব হয়। তালেবানের একটি সূত্র জানায়, নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের পদ-পদবি নিয়ে সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার ও মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মধ্যে বাকবিত-া হয়েছে। তবে তালেবান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনা স্বীকার করেনি।

তালেবান সূত্র জানায়, আফগানিস্তানে গঠন করা নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন মোল্লা আবদুল গনি বারাদার এবং নতুন সরকারের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল-উর রহমান হাক্কানি। বারাদার ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে মোল্লা হাসান আখুন্দকে তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী করা একটি সমঝোতার বিষয় বলেও মনে করা হয়।

খলিল-উর রহমান হাক্কানি দেশটির প্রভাবশালী হাক্কানি নেটওয়ার্কের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। উভয় নেতার বাকবিতণ্ডার সময় আশপাশে থাকা তাদের অনুসারীরাও ঝগড়ায় লিপ্ত হন। তালেবান সূত্র বলছে, বিবাদের পর কাবুল ছেড়ে কান্দাহারে চলে গেছেন বারাদার। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট পদে থাকা মোল্লা হিব্বাতুল্লাহ আখুন্দজাদারও কোনো হদিস নেই।

তালেবানের বিভিন্ন সূত্র বলছে, দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হলো, সরকারের কাঠামো নিয়ে বারাদার অসন্তুষ্ট। এ ছাড়া তালেবানের আবার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পেছনে কার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, সেটা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

বারাদার মনে করেন, তার মতো ব্যক্তিরা, যারা কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিলেন, তাদের কারণেই তালেবানের ‘জয়’ হয়েছে। অন্যদিকে, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যরা মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের মাধ্যমে তালেবানের জয় নিশ্চিত হয়েছে, সেই লড়াইয়ের অগ্রভাগে ছিল তারা।

২০২০ সালে তালেবান নেতা বারাদারই সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এর আগে, তালেবানের পক্ষ থেকে দোহা চুক্তিতেও সই করেন তিনি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close