সংসদ প্রতিবেদক

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে ৫০ শতাংশ

দেশে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে পিরোজপুর-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন সংসদ নেতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ১৮ বছরের ওপরে সব নাগরিককে করোনার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেজন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ১১৯ ডোজ করোনাভাইরাসের টিকার মজুদ ছিল বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ কোটি ৯ লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জনকে প্রথম ডোজ এবং তাদের মধ্যে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ ডোজ টিকা। বর্তমানে সাধারণভাবে ২৫ বছর ও তার বেশি বয়সিদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ১৮ বছর বয়স হলেই টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন। প্রাধিকারের তালিকায় যারা আছেন তাদের ক্ষেত্রেও বয়সের সীমা রাখা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ১২ বছর ও তার বেশি বয়সি শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা, প্রতিবন্ধীদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুবর্ণ কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া এবং শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহের জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের গৃহীত এসব কার্যক্রমের ফলে এ পর্যন্ত (১২ সেপ্টেম্বর) ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৬০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় ক্রয় চুক্তি এবং উপহার হিসেবে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা সংগ্রহ ও বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া থেকে ১ কোটি ডোজ স্পুৎনিক-ভি টিকা কেনার চুক্তি ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তাছাড়া কোভ্যাক্সের মাধ্যমে তিন কোটি ডোজ সিনোফার্ম ও সাড়ে সাত কোটি ডোজ সিনোভ্যাক টিকা আনার বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণের আশা প্রকাশ করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে ৬৭৩টি টিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং তা ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় চলমান এই বৈশ্বিক মহামারিকে সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব। পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এ জন্য টিকা গ্রহণের পাশাপাশি সবাইকে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close