নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সেবাই গুটিয়ে নিল বিআরটিসি

দুই বছরও টিকল না চক্রাকার বাস

নাগরিকদের নিরাপদ এবং আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীর ধানমন্ডি ও উত্তরায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চক্রাকার বাস সেবা চালু করেছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। কথা ছিল, ঢাকার অন্য জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের সেবা চালু করা হবে। তবে চালু হওয়ার দুই বছর না যেতেই এই সেবা নীরবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে এই সেবা চালু করা হয়েছিল তার সুফল মেলেনি।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে গত দেড় বছর রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচল কখনো সীমিত, আবারও কখনো বন্ধই ছিল। এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মহামারি শুরুর আগে চালু থাকা চক্রাকার বাসসেবা আর চালু হয়নি। শুরুতে এই সেবা চালু করার পর নাগরিকরা অনেক খুশি হয়েছিলেন। তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বাসে যাতায়াত করতে পারতেন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু ও অভিভাবকরা বেশি উপকৃত হয়েছেন। ডিএসসিসি মেয়র দেশে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আজ রবিবার থেকে খুলছে স্কুল-কলেজ। কয়েকদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলবে। তখন গণপরিবহনে চাপ আরো বাড়বে। চক্রাকার বাস সেবা চালু থাকলে ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকার মানুষের যাতায়াত আরো সহজ হতো বলে মনে করেন এলাকা দুটির বাসিন্দারা।

তবে বিআরটিসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চক্রাকার সেবা দিতে গিয়ে বিআরটিসি অনেক লোকসান করেছে। এখন তাই নতুন করে ওই সেবা চালু করার পরিকল্পনা নেই।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের বাসরুট র‌্যাশনালাইজেশন কমিটি গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কথা ছিল, এই কমিটি উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক গণপরিবহন নিয়ে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। তারই একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল এলাকাভিত্তিক চক্রাকার বাস সেবা। পরে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ ধানমন্ডি-নিউমার্কেট-আজিমপুর এলাকায় (প্রায় ১০ কিলোমিটার) চক্রাকার বাস সেবা চালু করা হয়।

ধানমন্ডি এবং উত্তরায় চক্রাকার বাসসেবা চালুর পর থেকেই বিআরটিসি লোকসান দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ ছিল যাত্রী সংকট। তাই এখন নতুন করে এই সেবা চালু করার কোনো উদ্যোগ নেই

এর দুই মাস পর ২৭ মে উত্তরার দুটি রুটে চক্রাকার বাস সেবা চালু হয়। এর মধ্যে আলাওল অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্ত থেকে হাউস বিল্ডিং, খালপাড় হয়ে উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে একটি সেবা। আরেকটি বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিমে থাকা বিভিন্ন সেক্টরের ভেতর দিয়ে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের স্লুইস গেট পর্যন্ত। তখন বলা হয়েছিল, পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পরপরই এই রাস্তার দুই পাশে বাস পাওয়া যাবে। তবে গত ৭ সেপ্টেম্বর উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর ঘুরে কোথাও বিআরটিসির ওই সেবার বাস দেখা যায়নি। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত ধানমন্ডির মিরপুর রোড, ঝিগাতলা, সাত মসজিদ রোড, কলাবাগান, আজিমপুর, পলাশী, এলাকা ঘুরেও কোথাও বিআরটিসির চক্রাকার বাস দেখা যায়নি। এই এলাকার মানুষ যে যার মতো লোকাল বাস, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করছেন।

এ বিষয়ে মতিঝিল বাস ডিপোর ব্যবস্থাপক মাসুদ তালুকদার বলেছেন, ধানমন্ডি এবং উত্তরায় চক্রাকার বাসসেবা চালুর পর থেকেই বিআরটিসি লোকসান দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ ছিল যাত্রী সংকট। তাই এখন নতুন করে এই সেবা চালু করার কোনো উদ্যোগ নেই।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close