আরমান ভূঁইয়া

  ০১ আগস্ট, ২০২১

ঢাকায় ফিরছে মানুষ পথে পথে ভোগান্তি

ভ্যান, অটোরিকশা, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিকল্প পরিবহনে কয়েক গুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে তাদের। অনেকেই হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন মাইলের পর মাইল

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই আচমকা সিদ্ধান্ত হয়েছে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলার। আর তাতে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শ্রমজীবী মানুষের ঢল নেমেছে। চাকরি বাঁচাতে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঢাকায় ফিরছেন পোশাক খাতে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পথে পথে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। ভ্যান, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিকল্প পরিবহনে কয়েক গুণ অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে তাদের। অনেকেই পায়ে হেঁটে কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। গতকাল শনিবার ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী, আমিনবাজার, আবদুল্লাহপুর, বাবুবাজার ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে দেখা গেছে এই চিত্র। এছাড়া নৌরুট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে হাজারো মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেছে দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই।

চলমান বিধিনিষেধে শিল্পকারখানা চালু করায় শ্রমিকরা দূরদূরান্ত থেকে কীভাবে কর্মস্থলে ফিরবেন, তার কোনো নির্দেশনা বা সুযোগ না থাকায় মানুষের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ডে দুটি বড় ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি ভারী বস্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহান আরা ও মানছুরা। তারা দুজনই ঢাকার মিরপুরের একটি গার্মেন্টের কর্মী। মানছুরা বলেন, ‘চাঁদপুরের কচুয়া থাইক্যা আইছি ভাই, অনেক কষ্ট কইরা। অফিস থেকে ফোন দিছে- ১ তারিখ থেকে খোলা, চাকরি করলে আইতে অইব। আমরা গরিব মানুষ, চাকরি না করলে কী খামু। যেহানে ভাড়া ১৭০ টাকা, সেহানে দিছি ৫০০ টাকা। এখন কেমনে মিরপুর যামু হেই চিন্তা করতাছি।’

মাকছেদুর রহমান এসেছেন দাউদকান্দি থেকে। তিনি বলেন, আমি কোনাবাড়ি যাব, সেখানে একটি গার্মেন্টে কাজ করি। অফিসের ইনচার্জ ফোন করে বলছে, ‘১ তারিখ থেকে খোলা। না আইসা উপায় আছে? একটা মাইক্রোবাসে তিনগুণ ভাড়া দিয়ে এ পর্যন্ত আসছি। মাঝখান দিয়ে অনেকখানি হাঁটছিও।’

কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে এসেছেন আলী আজম ও নোয়াজেস হোসেন। দুজনেরই বয়স ৫০ বছরের বেশি। তারা দুজনই তেলবাহী জাহাজে কাজ করেন। জাহাজের কর্মকর্তারা ফোন দিয়েছেন কাজে যোগ দিতে। তারা ঢাকা হয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর যাবেন। নওয়াজেশ হোসেন হাত রক্তাক্ত দেখিয়ে বলেন, ‘বাবা একটা মালের গাড়িতে উঠতে গিয়ে আঙুল ছেঁচে গেছে। টাকাও গেছে, কষ্টেরও শেষ নাই।’

গাবতলী, আমিনবাজার প্রবেশ মুখেও একই অবস্থা। হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে গাবতলী সেতু পাড় হচ্ছেন। বহুপথ পায়ে হেঁটে আসায় অনেকেই মাঝ পথে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। মিরপুর-২ নম্বরের একটি পোশাক কারখানার ওয়াশ শাখায় কর্মরত রবিউল বলেন, ‘ভেবেছিলাম ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি থাকবে। এজন্য একটু দেরি করে ফিরতে চেয়েছিলাম। কাল থেকে কারখানা খোলা, তাই বাধ্য হয়েই আজকে আসতে হলো।’

টাঙ্গাইলের ভাদ্রাবাজার থেকে আসা প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘গণপরিবহন নেই। আমাদের কষ্ট কে দেখবে! চাকরি বাঁচাতে ১০ মাইল হেঁটে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘ছুটি ছিল ২ আগস্ট পর্যন্ত কিন্তু মালিক আজকে আসতে বলছেন। টাঙ্গাইল থেকে সাভার আসতে ৬০০ টাকা খরচ হইছে। এখন আমিন বাজার থেকে ফকিরাপুল চাইছে ৮০০ টাকা।’

এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব গাড়ি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে আসছে, সে পরিবহনগুলোকে টঙ্গী-জয়দেবপুর-গাজীপুরের চেকপোস্ট থেকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যাত্রীরা সপরিবারে ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পার হচ্ছেন। এতে কর্মস্থলে ফেরা এসব মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া নিলেও বিধিনিষেধ অমান্য করে যাত্রী পরিবহন করা ট্রাক ও পিকআপ চালকরা পুলিশের চেকপোস্টের আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। যাত্রীরা চেকপোস্ট ও সেতু পেরিয়ে আবারও অন্য পরিবহনে নতুন করে ভাড়া দিয়ে আবার ট্রাকে, পিকআপে উঠে যে যার গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা আফজাল হোসেন বলেন, ‘সবসময় সরকার শ্রমিকদের নিয়ে খেলে। প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়, কিন্তু শ্রমিকরা কীভাবে আসবে সেই চিন্তা করে না। আমাদের মূল্য নেই। আমরা ফুটবল, শট (লাথি) খাই সবসময়।’ বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে আসা এক গার্মেন্টকর্মী মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘গার্মেন্ট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, কেন পরিবহন খুলে দেওয়া হলো না? আমরা এত কষ্ট করে ঢাকায় ফিরছি, তার মধ্যে ভাড়া দিতে হচ্ছে কয়েকগুণ। তাও গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে হেঁটে এলাম।’

এ ছাড়াও অনেককে প্রাইভেট কার ভাড়া করে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। পুলিশি বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি তাদের। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরেছেন তারা।

এদিকে রাজধানীর সড়কে বিভিন্ন অফিসের গাড়িতে কর্মীদের পরিবহন করতে দেখা গেছে। তবে এভাবে ঢাকা ফেরা মানুষের সংখ্যা কম। দূরপাল্লার যান বন্ধ থাকায় অধিকাংশই মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশায় গাদাগাদি করে ফিরেছেন। কিছু স্থানে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। গাড়ি থেকে নেমে ঢাকার দিকে হাঁটা ধরেন তারা। পরে আবার অন্য পরিবহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

আকবর আলী নামে এক শ্রমিক বলেন, যেহেতু কারখানা খুলছে, তাই পরিবহনের ব্যবস্থা করলে এভাবে গাদাগাদি করে আসতে হতো না তাদের। পরিবার, ব্যাগপত্র নিয়ে বারবার দুর্ভোগে পড়তে হতো না। ভিড়ও এড়ানো যেত। তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমত।

মিরপুর দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকেই প্রচুর মানুষ ঢাকায় ফিরছে। গার্মেন্টসহ অন্য কলকারখানা খুলছে, এ কারণে আজ চাপ বেশি।’ তিনি বলেন, ‘চাকরিতে যোগ দিতেই তারা শত দুর্ভোগ পেরিয়ে ঢাকায় ফিরছেন। পুলিশ তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করছে।’

বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে উঠে আসে ঢাকামুখী মানুষের অন্তহীন ভোগান্তির চিত্র।

শিবচর (মাদারীপুর) : কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ভ্যান ও পিকআপে চড়ে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে আসতে দেখা গেছে ঢাকামুখী হাজারো শ্রমিককে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শিবচরের বাংলাবাজার ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল করেছে। যাত্রীদের চাপে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির ঘাট কর্তৃপক্ষকে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের চাপে যানবাহনের ঠাঁই মেলেনি। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পৌঁছালেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিভিন্ন উপায়ে ঘাটে আসা যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় সৃষ্টি হয়। উদ্দেশ্য কর্মস্থলে যোগদান করা। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য আটটি ফেরি থেকে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১৬টিতে করা হয়েছে। যখন যে ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছাড়া প্রয়োজন সেভাবেই ছেড়ে যাচ্ছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) : পাটুরিয়া ঘাটে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে ফেরিতে পা রাখার ঠাঁই ছিল না। সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে নদী পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছেন। পাটুরিয়া ঘাট থেকে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও সিএনজিতে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হতো ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এখন জনপ্রতি দিতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

ভোলা : ভোলার ইলিশা-লক্ষ¥ীপুর ফেরিঘাটে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলামুখী যাত্রীদের তীব্র সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই ফেরি পার হতে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। ফেরিতে জায়গা না পেয়ে অনেকেই স্পিডবোট ও টলারে করে নদী পার হতে দেখা যায়। সন্ধ্যায়ও ঘাটে ফেরির কয়েক হাজার যাত্রীকে অপেক্ষায় করতে দেখা যায়। যাদের অধিকাংশ ঢাকা, চট্টগামের বিভিন্ন গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিক।

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : রপ্তানিমুখী সব শিল্পকারখানা খোলার ঘোষণায় পর থেকেই সকাল থেকেই রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় বাড়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কর্মস্থলে ফিরতে দেখা যায় হাজার হাজার শ্রমিকদের। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা ছোট ছোট যানবাহন ও পায়ে হেঁটেই ঢাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায় এসব মানুষকে।

গাজীপুর : শিল্পশহর গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছেন লাখ লাখ শ্রমিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকেরা পিকআপ, ট্রাক, ভ্যান সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে ফিরছেন তারা। যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে আসছেন বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে। অনেকেই গাজীপুর হয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছেন। নানা পরিবহনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরিবহনগুলোকে গাজীপুরে আটকে দেয় গাজীপুর পুলিশ। নারী-শিশুসহ বহু মানুষ হেঁটেই রওনা দেয়।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর): জামালপুর বকশীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ঢাকামুখী কর্মজীবীরা। দূরপাল্লার বাস না থাকায় কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন হাজারও মানুষ।

শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুরের শত শত কারখানার শ্রমিক মহাসড়ক ধরে হাঁটছেন। হাতে ব্যাগ, মাথায় ভারী বোঝা নিয়ে ঠাসাঠাসি ও গাদাগাদি করে নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ শিশুসহ হাজারো শ্রমিক করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই রওনা হন কর্মস্থলে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা ও ময়মনসিংহের শেষ সীমান্ত জৈনাবাজার এলাকা থেকে শুরু করে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত এমন চিত্র দেখা যায়।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : শিল্পকারখানা খোলার ঘোষণায় কর্মস্থলমুখী মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। দূরপাল্লার বাস না থাকায় নানা ভোগান্তি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা গেছে কর্মমুখী মানুষকে।

গাইবান্ধা : গার্মেন্টস খোলার খবরে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীমুখী শ্রমিকদের ঢল নেমেছে। যাত্রীবাহী বাস না থাকায় মোটরসাইকেল, বিভিন্ন ধরনের থ্রি-হুইলার, কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, পিকআপ, ট্রাক, নৌকা ও পণ্যবাহী অন্যান্য যানবাহনে নানা কৌশলে যাত্রীরা ঢাকায় রওনা হন।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভীড় ছিল দেখার মতো। বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক, ভ্যানরিকশাযোগে টার্মিনালে এসে জড়ো হয় অসংখ্য মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন এসব কর্মজীবী মানুষ।

কুড়িগ্রাম : পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় চাকরি বাঁচানোর তাগিদে নৌপথসহ নানা উপায়ে ঢাকা যান শ্রমিকরা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close