হাসান ইমন

  ২২ জুন, ২০২১

দুই সিটিতে খাল পরিষ্কারের সুফল

রাস্তার পানি দ্রুত নামছে কমেছে দুর্ভোগ

একসময় রাজধানীতে একটু বৃষ্টি হলেই কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যেত। এসব পানি সরতে কয়েক দিনও লেগে যেত। দুর্ভোগের অন্ত থাকত না পথচারীদের। কয়েক বছর ধরে এমনই চিত্র দেখা যেত জনবহুল এই নগরীতে। তবে গত বছর ওয়াসার কাছ থেকে খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন খাল ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন সংস্কারে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে সংস্থা দুটি খালগুলো থেকে লাখ লাখ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জলাবদ্ধতা কমেছে। নগরীর একাধিক এলাকায় রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমলেও তা স্বল্প সময়ে নেমে যাচ্ছে। তথ্যমতে, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর খাল পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রম হাতে নেয় দক্ষিণ সিটি। এরমধ্যে জিরানী খাল থেকে ৩২ হাজার ১৮০ টন বর্জ্য ও ১ লাখ ৬৭ হাজার টন পলি, মান্ডা খাল থেকে ২৮ হাজার ১৪৫ টন বর্জ্য ও ১ লাখ ৭ হাজার টন পলি, শ্যামপুর খাল থেকে ২৭ হাজার ১৩৫ টন বর্জ্য ও ২ লাখ ২৫ হাজার টন পলি, শুখনগর খাল থেকে ১২০০ টন বর্জ্য ও ৬০ হাজার টন পলি, তিতাস খাল থেকে বর্জ্য ৮০৩ টন, কাজলা খাল থেকে ৫ হাজার ৪৬২ টন বর্জ্য ও ১ লাখ ২০ হাজার টন পলি, কামরাঙ্গীচর থেকে বর্জ্য ৫ হাজার ১৮৩ টন ও কুতুবখালী খাল থেকে ৬১০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এসব বক্সকালভার্ট ও খালগুলো থেকে ১ কোটি ৪ লাখ ১৭৩ টন বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ৩৫ কিলোমিটার খাল প্রবহমান। এ ছাড়া হাজারীবাগ, কালুনগর, বউবাজার এবং ৫২, ৫৩ ও ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দমা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জলাবদ্ধপ্রবণ ৩১ এলাকা চিহ্নিত করে ডিএসসিসি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এরমধ্যে ৮ এলাকার কাজ শেষ হয়েছে ও ১২ এলাকার কাজ চলছে এবং ১১ এলাকার কাজ শুরু হবে।

------
অন্যদিকে ডিএনসিসির কাছে ঢাকা ওয়াসা ১৪টি খাল হস্তান্তর করেছে। এরমধ্যে রূপনগর, রামচন্দ্রপুর, গোদাগাড়ী, কল্যাণপুর ক, খ, গ, ঙ ও চ খাল পরিষ্কার করেছে ডিএনসিসি। বিগত আড়াই মাসে এসব খাল থেকে ১০ হাজার ৪০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ফলে এসব এলাকার এ খাল অনেকাংশে প্রবহমান হয়েছে। এটা ধরে রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ওয়াসার দায়িত্বে থাকা রাজধানীর সব নালা ও খাল দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে ‘বহুলাংশে’ মুক্তি দেবে বলে আশ্বস্ত করে। গত ১ ও ৫ জুনের বৃষ্টিতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় তার আভাস মিললেও সরেজমিনে দেখা গেছে, নিম্নাঞ্চলে এখনো সংস্থা দুটির দেওয়া প্রতিশ্রুতির পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা কম হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ঢাকার শান্তিনগর এলাকা ছিল জলাবদ্ধতার মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার বর্ষায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। আশপাশের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা হলেও শান্তিনগরে তেমনটা হয়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় হাঁটুপানির সৃষ্টি হতো। দীর্ঘ সময় ধরে এই পানি সরত না। এ অবস্থায় বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে দক্ষিণ সিটি। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ডিএসসিসির আওতাধীন জলাবদ্ধপ্রবণ ৩১টি এলাকা চিহ্নিত করেছি। এসব এলাকায় পানি সরানোর জন্য নতুন করে ড্রেনেজ লাইন তৈরির কাজ চলছে। এরমধ্যে আট এলাকার কাজ শেষ হয়েছে। এসব এলাকায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি জমেনি। এ ছাড়া ১২টি এলাকায় ড্রেনেজ তৈরির কাজ চলছে। আর বাকি ১১টির কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

গত বুধবার কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর সিটি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, জনগণের সহায়তায় তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী বলেই ১ জুন ঢাকায় দীর্ঘ সময় ধরে রেকর্ড ৮৫ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নগরবাসী জলজট থেকে মুক্তি পেয়েছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close