নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৯ মে, ২০২১

রিমান্ড-জামিন নাকচ কারাগারে রোজিনা

বৃহস্পতিবার জামিনের আশা

সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদন গতকাল মঙ্গলবার নাকচ করে দিয়েছে আদালত। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য দিন ঠিক রেখে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম। এর পরই রোজিনা ইসলামকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নেওয়া হয় বলে জানান আদালতের হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। এর আগে সকালে তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক আরিফুর রহমান সরদার।

এদিকে স্বরাষ্ট্র এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে রোজিনা ইসলামের বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে দেখা করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

------
পরে ফরিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, রোজিনার চিকিৎসা এবং কারাগারে যাতে নতুন করে ‘হেনস্তা’ হতে না হয়ে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সাধ্যমতো’ দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার শুনানিতে রোজিনার জামিনের আশাও প্রকাশ করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীও বিষয়টার সুন্দর সমাধানের কথা বলেছেন।’ গত সোমবার বিকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে মন্ত্রণালয়ে যান রোজিনা। এরপর সরকারি নথি ‘চুরি’ করার অভিযোগে সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আটক থাকার একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর তার বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলা করা হয়।

রোজিনার মুক্তির দাবিতে রাতেই গণমাধ্যমের শতাধিক কর্মী শাহবাগ থানায় জড়ো হন। হেনস্তার প্রতিবাদ, মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।

রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করেন সাংবাদিকরা। গতকাল ব্রিফিংয়ের জন্য স্বাস্থ্যের কর্মকর্তারা সম্মেলন কক্ষে গেলে সেখান থেকে চলে যান সাংবাদিকরা। এর আগে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সংবাদ সম্মেলন বয়কট করে সবাইকে সম্মেলন কেন্দ্র ত্যাগ করার অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান দেশের ১১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। বিবৃতিতে তারা বলেন, রোজিনা ইসলাম যেভাবে কর্মকর্তাদের দ্বারা হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন তা আমাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

বিবৃতি দেওয়া ১১ বিশিষ্ট নাগরিক হলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, সারোয়ার আলী, মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, মুনতাসীর মামুন, শাহরিয়ার কবীর, আবদুস সেলিম ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগে মামলা করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এছাড়া রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এই বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আরো বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

এছাড়া রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো : রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও হেনস্তায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সিইউজের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজের সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটো, প্রথম আলোর বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর বাবু ও সিইউজের সদস্য সুবল বড়ুয়া। সমাবেশে সিইউজের সদস্যসহ চট্টগ্রামে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

রাজশাহী ব্যুরো : রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। আরইউজে সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ-সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম, কাজী শাহেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন-অর-রশীদ, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল, বিএফইউজের কার্যনির্বাহী সদস্য জাবীদ অপু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মশিহুর রহমান প্রমুখ।

রংপুর : রোজিনা ইসলামের মুক্তি, চিকিৎসা এবং হেনস্তাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রংপুর প্রেস ক্লাব। সভাপতি আবদুর রশিদ বাবুর সভাপতিত্বে অংশ নেয় সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেস ক্লাব, রংপুর সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

সাতক্ষীরা : রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। এতে নেতৃত্ব দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুজন।

পটুয়াখালী : রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এতে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাব সভাপতি স্বপন ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ প্রমুখ।

কুড়িগ্রাম : রোজিনার মুক্তি ও হেনস্তাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি কলেজ মোড়ে এবং কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা।

নেত্রকোনা : পৌরসভার সামনের প্রধান সড়কে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।

নোয়াখালী : জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। এছাড়াও দেশের আরো বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ, মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close