নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১০ মে, ২০২১

আছে আর ৮ লাখ ৮৩ হাজার

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে না এলেও ফুরিয়ে আসছে এর প্রতিষেধক বা টিকার মজুদ। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০ ডোজ। হাতে আছে আর ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯২০ ডোজ।

টিকার সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২৬ এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ টিকাদান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগের দিন এমন ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রথম ডোজের কিছু টিকা দেওয়া চলছে এখনো। গতকাল রবিবারও দেশে কোভিডপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪৪ জন। গত শনিবার নিয়েছেন দুজন। এর আগে বৃহস্পতিবার নিয়েছেন ৪৩ জন। গত বুধবার প্রথম ডোজ নেন ৫৪ জন। গত মঙ্গলবার নেন ৩৮ জন। গত ৩ মে সোমবার নিয়েছিলেন ১০ জন। গত ২ মে নিয়েছিলেন ৫৩ জন। এর আগের কার্যদিবস ২৯ এপ্রিল নিয়েছিলেন ১০ জন। গত ২৮ এপ্রিল নিয়েছিলেন ৩০ জন। আগের দিন নিয়েছিলেন ৩২৫ জন। গত ২৬ এপ্রিল নিয়েছিলেন ১ হাজার ৩১ জন। এ নিয়ে দেশে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ জন প্রথম ডোজ টিকা নিলেন।

------
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৯৪ হাজার ৬৫৫ জন। এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নিলেন ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৬ জন। গত ৮ এপ্রিল শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান।

গতকাল যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে কারোরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। গতকাল পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে মাথাব্যথা, গলাব্যথা, হালকা জ্বরের মতো সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৯৯৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ লাখ ৮ হাজার ৯৭০ এবং নারী ২২ লাখ ১০ হাজার ৯৩০ জন। গতকাল বিকাল পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন। অর্থাৎ গতকালও কোনো নিবন্ধন হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে গতকাল যারা প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৩ এবং ২ জন নারী। গতকাল প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ঢাকা বিভাগে একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন টিকা নেন যথাক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জন, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০, ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৪, ১ লাখ ২১ হাজার ১০ এবং ১ লাখ ৯৮৩ জন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টিকা নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ জন। পরদিন নিয়েছিলেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫ জন। ২৫ ফেব্রুয়ারি নেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। এরপর থেকে টিকা নেওয়ার হার আরো কমতে থাকে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন। ২৮ ফেব্রুয়ারি নেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫২ জন।

প্রথম ডোজ টিকা গ্রহীতার সংখ্যা কমতে কমতে ১৩ হাজারে নেমে এসেছিল গত ৭ এপ্রিল। আগের দিন ছিল ১৬ হাজারের ঘরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত সোমবার দেশে কোভিডপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। গত রবিবার নেন ১৯ হাজার ৫২০ জন। গত শনিবার নেন ২০ হাজার ১৯৪ জন। গত ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ১৬ হাজার ৭৮৪ জন। গত ২১ এপ্রিল নেন ১৬ হাজার ৮১৭ জন। গত ২০ এপ্রিল প্রথম ডোজ নেন ১৫ হাজার ৯৩৮ জন। গত ১৯ এপ্রিল প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ১৫ হাজার ৫৭ জন। গত ১৮ এপ্রিল নেন ১৫ হাজার ৪৮ জন। এর আগের দিন নেন ১২ হাজার ১৫৭ জন। গত ১৫ এপ্রিল নিয়েছিলেন ১০ হাজার ৫৭২ জন। গত ১৩ এপ্রিল নেন ২৬ হাজার ৭৫০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শুরুর দিকে বলেছিলেন, সরকার প্রতিদিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দিতে প্রস্তুত। প্রথম মাসে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। পরে এ সংখ্যা কমিয়ে ৩৫ লাখ ধরা হয়েছে।

গত ২৭ জানুয়ারি দেশে প্রথম কোভিডপ্রতিরোধী টিকা নেন এক নার্স। প্রথম দিন টিকা দেওয়া হয় বিশিষ্ট ২৬ নাগরিককে। পরদিন রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ৫৪১ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হয়। আর ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে শুরু হয় কোভিডপ্রতিরোধী গণটিকাদান কার্যক্রম। ওইদিন সারা দেশে টিকা নিয়েছিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৮৫৭ এবং নারী ৭ হাজার ৩০৩ জন।

বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড। সবাইকে এ টিকার দুটি করে ডোজ নিতে হবে। সরকারের কেনা এ টিকার ৩ কোটি ডোজের মধ্যে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আসে গত ২৫ জানুয়ারি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া ভারতের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি ২০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় চালানে এসেছে আরো ২০ লাখ ডোজ। সর্বশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ১২ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close