মাওলানা মাসউদুল কাদির

  ১০ মে, ২০২১

রোজার শিক্ষা ভালোবাসতে হবে মানুষকে

বারবার সওম আসে, আমরা উপবাস থাকি। আল্লাহকে খুশি করার জন্য যে সিয়াম তা কেন জীবন রাঙাবে না। সওমের শিক্ষা আসলে কী? সমাজে আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান রোজার আসল শিক্ষার কোনো ধার ধারেন না। প্রত্যেক বছর রোজা এলেই এ দেশে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এই দ্রব্যমূল্য কোনো অমুসলিমরা বাড়ান না; বাড়ান আমাদের দেশের কথিত মুসলিম ব্যবসায়ীরা। যাদের কাছে রমজানের শিক্ষার চেয়ে ব্যবসাই বড়। এটা এমনভাবে মানুষের মধ্যে বদ্ধমূল হয়েছে, যা বলাবাহুল্য। মানুষের হৃদয়ের বিবর্তন ছাড়া এ সমাজের আত্মিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানুষ ভাবে, সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে হলেও

মুনাফা করতে হবে। রোজার শিক্ষা ব্যবসায়ীদের মধ্যে থাকলে দ্রব্যমূল্য না বেড়ে বরং কমে যেত; যে রকমটি আমরা লক্ষ করি পাশের রাষ্ট্র ভারতসহ অন্যান্য মুসলিম-অমুসলিম দেশে। সেখানে তাদের ধর্মীয় উৎসবের সময় ব্যবসায়ীরা বিনা লাভে বা অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন।

------
সিয়াম কী শিখিয়ে যায় আমাদের! মানুষকে বাঁচতে শেখায় সব ধরনের কাম-রিপু ও প্রবৃত্তির বাসনা থেকে। অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি রক্ষায় রোজা খুবই কার্যকর এক পদক্ষেপ। দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, ‘সিয়াম সাধনায় মানুষকে ফেরেশতাদের মতো করে নির্মাণ করে।’

সর্বত্র পরিবর্তনের আবহে রোজার সাধনায় পুরো সমাজই বদলে যায়। রমজানের বরকত ও আধ্যাত্মিক প্রভাবে মানুষের জীবন, পরিবার, সমাজ, দেশসহ সবখানে রোজায় ভিন্ন ধরনের এক মাত্রার সৃষ্টি হয়। সহনশীলতায় ছেয়ে যায় পুরো দেশ। মানবিক উন্নতির পসরা যেন বয় রমজানে।

রোজায় যে সহনশীলতা আমরা শিখতে পারি, যে সংযম অর্জন করি, যে মধুরতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো রমজানে, অন্যের জন্য যে আকুতির মিনার সুউচ্চ হয় রোজায় তা কেবলই রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের মাসেই চর্চার বিষয়! না, সারা বছরই আমাদের কল্যাণের সব চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। ভালোবেসে যেতে হবে মানুষকে। তাহলেই রোজার প্রকৃত শিক্ষা কাজে লাগবে।

হাদিস গ্রন্থ মিরকাতে এসেছে, ‘নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করাই সবচেয়ে বড় জিহাদ।’ রোজায় মোমিনরা নিজেকে পবিত্র করার পাশাপাশি কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। মন চায় খেতে, খায় না। মন চায় নানা রকম অহেতুক কথা বলতে, বলে না। মন চয় অসংযত ও অসংযমী হতে, হয় না। এ যে চরম কু-প্রবৃত্তি বিরোধিতা, এটি রমজানেই মানুষকে শিক্ষা দেয়। মানুষ একটি মাসে সিয়াম সাধনার এই ত্যাগের বিনিময় নিজেকে পবিত্র করে তোলে। এই পবিত্র মানুষই পরের মঙ্গল কামনা করে। অন্যের উপকারে নিজেকে রাখে নিয়োজিত, ব্যস্ত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জিনিসকে নিজের জন্য যতটুকু প্রয়োজনীয় ও উপকারী মনে করে, তা যতক্ষণ অন্যের জন্যও ভালো মনে না করবে, ততক্ষণ সে প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম)

রোজা মানুষকে ইমানদার বানায়। আর মোমিন তো মানুষের কল্যাণ চায়। তাই রোজাদার সারা বছরই মানবিক কল্যাণমূলক কাজে প্রয়াসী থাকে, তৎপর থাকে। রোজার শিক্ষা এ মাস পর্যন্তই নয় বরং সারা বছর, সারা জীবন রোজার শিক্ষাকে কাজে লাগানো দরকার। তাহলেই আমাদের চেষ্টা সার্থক হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের কবুল করুন। আমিন।

লেখক : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close