প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

‘হাসিনা আমারো শান্তি দিছে, আল্লাহ তারেও যেন শান্তিতে রাহে’

ঘর পেয়ে অনেকের চোখে পানি

আয়মন বেগম, বয়স ৭০। স্বামী মারা গেছেন ২০ বছর আগে। ঘর নেই, বাড়ি নেই। থাকেন অন্যের বাড়িতে। দুই ছেলে আছে, পেশায় দিনমজুর। নিজেদের সংসার চলে না অজুহাতে খোঁজ নেন না মায়ের। তাই জীবিকার তাগিদে আয়মন বেছে নিয়েছেন মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ। ভাঙা ঘরে ঝড়-বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাকে। নতুন ঘর তোলা দূরে থাক, ভাঙা ঘর মেরামত করারই সামর্থ্য নেই তার। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার পাকা ঘর আর দুই শতাংশ জমি পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নদীসুকা গ্রামের এই বৃদ্ধা। চোখের কোণে জমে ওঠা জল মুছতে মুছতে আয়মন বলেন, ‘হাসিনা আমারো শান্তি দিছে, আল্লাহ তারেও যেন শান্তিতে রাহে (রাখে)।’ তবে এমন অনুভূতি শুধু এই আয়মনের নয়; দেশের ভিক্ষুক, ছিন্নমূল এবং বিধবাসহ ৬৬ হাজার ১৮৯ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের সদস্যদেরও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উদ্যোগ পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’ একসঙ্গে এত পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়ার ঘটনা বিশে^ এটিই প্রথম। কোনো ঠিকাদার ছাড়া মাত্র তিন মাসে উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঘরগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এক মাসের মধ্যে আরো এক লাখ ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন জেলা প্রতিনিধিরা

মানিকগঞ্জ : জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সাত উপজেলায়ই ঘর নির্মাণের এই মহাকর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের তদারকিতে আশ্রয়হীন মানুষের এই স্বপ্ননীড় গড়ে উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ কাজে সমানভাবে ভূমিকা রেখেছেন।’

------
বাগেরহাট : পরের জমিতে ঘর বেঁধে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করা বাগেরহাট সদর উপজেলার শ্রীঘাট গ্রামের তরিকুল ইসলামের কথায় উঠে আসে কীভাবে তার ভাগ্যে জুটল এ ঘর। তিনি বলেন, ‘এক দিন এলাকায় মাইকের শব্দ কানে এলো। বলা হচ্ছিল, যাদের জমি নেই, ঘরও নেই তাদের ঘর দেওয়া হবে। তাদের নির্ধারিত দিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে নামের তালিকা জমা দিতে বলা হয়। আমি এই সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আমার নাম জমা দিই। এরপর এক দিন ইউনিয়নের সব ভূমি ও গৃহহীনদের উপস্থিতিতে প্রশাসন লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে। ওই লটারিতে আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।’ ভ্যানচালক তরিকুল আরো বলেন, ‘স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে আমার ছোট সংসার। লটারিতে নিজের একটা স্থায়ী বাসস্থান জুটে যাওয়ায় আমি দারুণ খুশি।’

বাগেরহাটের ডিসি ফয়জুল হক বলেন, জেলার ৩৩৮টি পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ঘরগুলো তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই তা হস্তান্তর করা হবে। উপকূলীয় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ১৯৭টি, বাগেরহাট সদরে ৫৪, কচুয়ায় ৩৬, রামপালে ১০, মোংলায় ৫০, মোল্লাহাটে ৩৫, চিতলমারীতে ১৭, ফকিরহাটে ৩০ এবং মোরেলগঞ্জে ছয়টি পরিবার এ ঘর পাচ্ছে।

যশোর : যশোরে আটটি উপজেলায় প্রথম ধাপে ৬৬৬টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার হাতে জমিসহ নতুন ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত সুবিধাভোগীরা ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ায়’ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। যশোরের আট উপজেলায় ১ হাজার ৭৩টি পরিবারকে জমিসহ নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার প্রথম ধাপে ৬৬৬টি পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়া হলো। বাকি ৪০৭ পরিবারকে দ্রুত জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হবে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে যশোর সদর উপজেলায় ২৯০টি, ঝিকরগাছায় ১৯, চৌগাছায় ২৫, মনিরামপুরে ১৯৯, অভয়নগরে ৫৭, কেশবপুরে ১২ ও শার্শা উপলোয় ৫০টি জমিসহ ঘর বুঝে পেয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

উপকারভোগী শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার জায়গাজমি ছিল না। পরের বাড়ি কাজকর্ম করতাম ও ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এখন আমাদের মা জননী হাসিনা জায়গা দিয়েছেন, ঘর দিয়েছেন, আমি তাতে অনেক খুশি। তার জন্য নামাজ পড়ে মোনাজাত করব। আমাদের মতো গরিবদের পাশে যেন তিনি সারাজীবন থাকতে পারেন। আমাদের চোখের পানিটা যেন মুছে যায়। দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী সারা পৃথিবীর কাছে সম্মান পান।’

চাঁদপুর : চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েছে ১১৫টি পরিবার। উপহার পেয়ে খুবই আনন্দিত চাঁদপুর সদরের উপকারভোগীরা। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে উপকারভোগী মেঘনাথ ত্রিপুরা বলেন, ‘ঘর পেয়ে খুবই খুশি হলাম। আমার ঘর-বাড়ি ছিল না। প্রধানমন্ত্রী দেওয়ার কারণে আমার এখন সবকিছুই হলো।’

আরেক উপকারভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ঘর-বাড়ি নদীতে পাঁচবার ভাঙা দিয়েছে। এরপর এক জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে।’ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শুকরিয়া আদায় করছি এবং প্রধামন্ত্রীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।’ রাস্তার মাটিকাটার শ্রমিক চামেলী গৃহহীন ত্রিপুরা বলেন, ‘স্বামীর রোজগার দিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন নিজেও কাজ করি।’

সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বাসিন্দা পিংকি রানী ত্রিপুরা বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। প্রধামন্ত্রী ঘরের ব্যবস্থা করায় তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

নওগাঁ : নওগাঁয় ১ হাজার ৫৬টি পরিবার পেল ঘর। নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপকারভোগীদের মাঝে ঘরের কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়। নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, জেলায় ‘ক’ ও ‘খ’ শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৯৩টি। প্রথমপর্যায়ে জেলার ১ হাজার ৫৬টি পরিবারকে দুই শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত-পূর্বক গৃহ দেওয়া হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে ও রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা, দিনমজুর, ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ভিক্ষুক পরিবার ৩১টি, প্রতিবন্ধী ১৫, অন্যের বাড়িতে-রাস্তার পাশে ও খোলা জায়গায় ঝুপড়ি ঘরে থাকা ১১, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা ৫৫, দিনমজুর ১২, আদিবাসী ৯১ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার রয়েছে ৭৩টি।

মান্দা উপজেলার ভূমিহীন তাহমিনা বেগম অন্যের জায়গায় বেড়ার ঘর করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে। তিনি বলেন, এখন নতুন বাড়িতে স্বামী-সন্তান নিয়ে উঠব। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে ঘুমাতে পারব নিশ্চিন্তে।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলায় জমি ও ঘর পেয়েছে ১৩৪ গৃহহীন পরিবার। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে ভূমি ও ঘরহীনদের জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে সদরের ৩৪, আলমডাঙ্গার ৫০, দামুড়হুদার ৩২ ও জীবননগরের ১৮ পরিবারকে দেওয়া হয় আধাপাকা নতুন ঘর।

চুয়াডাঙ্গা ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ১ হাজার ১৩১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়া হবে। মুজিববর্ষের মধ্যেই নির্ধারিত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা ঘর পাবেন। শুরুতে দেওয়া হয়েছে ১৩৪ পরিবারকে।

ঘর পেয়ে আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামের রেহেনা বেগম বলেন, ‘আমারা সরকারি জমিতে থাকতাম। এখন ঘর ও নিজের জমি হলো। খুব ভালো লাগছে। কল (টিউবওয়েল) পোঁতা হলে এবং বিদ্যুৎলাইন দিলে তাড়াতাড়িই ওই ঘরে উঠব।’

হাতিকাটা গ্রামের ইকরামুল হক জানান, ‘তার ভাই তরিকুল ঘর পেয়েছে। আমরা খুবই খুশি। পাকা ঘরে থাকা যাবে।’

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলার ৫০৮ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার গতকাল শনিবার ঘর পেয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৫০৮টি পরিবার পাবে দুই শতাংশ জমির দলিল এবং ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই কক্ষের আধাপাকা ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

এই ৫০৮টি গৃহের মধ্যে সদর উপজেলায় ১০০টি, গজারিয়া উপজেলায় ১৫০, লৌহজং উপজেলায় ১৪৩, সিরাজদিখান উপজেলায় ২৫, টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ২০, শ্রীনগর উপজেলায় ৭০টি পরিবার জমির দলিলসহ এসব ঘর পেয়েছে। ঠিকানাবিহীন পরিবারগুলো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ায় আনন্দে বিভোর এখন।

জয়পুরহাট : মুজিববর্ষ উপলক্ষে জয়পুরহাটে ১৬০টি পরিবারের মধ্যে জমি ও গৃহ দেওয়া হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১৬০টি পরিবারের মধ্যে নবনির্মিত এসব গৃহের দলিল হস্তান্তর করা হয়।

রাঙামাটি : ডিসি মামুনুর রশিদ জানান, রাঙামাটির ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৬৮টি পরিবারকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৬০, কাপ্তাই উপজেলায় ৩০, রাজস্থলী উপজেলায় ৬২, বরকল উপজেলায় ১৯, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩৫, লংগদু উপজেলায় ৩৪ ও নানিয়ারচর উপজেলায় ২৮টিসহ ২৬৮টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

দিনাজপুর : ভূমিহীন ও গৃহহীন জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’র আওতায় দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় ৩ হাজার ২২টি পরিবারকে ঘরের চাবি দেওয়া হয়েছে।

ডিসি মাহমুদুল আলম বলেন, প্রথমপর্যায়ে ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বাড়ি পাবেন। তবে নির্মাণ শেষ করা ৩ হাজার ২২ জনকে শনিবার ঘর দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ঘর নির্মাণ শেষ হলেই পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।

টাঙ্গাইল : এ জেলার ১২ উপজেলার ৬০৭টি পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর কবুলিয়ত দলিলসহ নবনির্মিত বাসগৃহ পেয়েছেন বলে টাঙ্গাইলের ডিসি ড. মো. আতাউল গণি জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপকারভোগীদের হাতে দলিল তুলে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার ১৫৭টি পরিবার শেখ হাসিনার উপহার জমিসহ দুই কক্ষের ঘর পেয়েছেন। উপকারভোগীদের এসব ঘরের চাবি, জমির কাগজ বুঝিয়ে দেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ প্রথম ধাপে কুষ্টিয়ার ১৫৭টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে সদর উপজেলায় ১টি, মিরপুর উপজেলায় ৫৬টি এবং ভেড়ামারা উপজেলায় ১০০টি ঘর দেওয়া হয়েছে।

খুলনা : ৯২২টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের প্রত্যেককে দুই শতক জমি এবং একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুজিববর্ষে ২১ উপজেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্প গ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

৯২২ পরিবারের মধ্যে তেরখাদা ৪০টি, দিঘলিয়া ৭০, ডুমুরিয়া ১৪০, ফুলতলা ৪০, রূপসা ৭২, পাইকগাছা ২২০, বটিয়াঘাটা ১৫০, কয়রা ৫০, দাকোপে ১৪০টি পরিবার জমি ও ঘর পেয়েছে। এই ৯২২ পরিবারের প্রধানদের মধ্যে ৫৭০ দিনমজুর, ৩২ শ্রমিক, ৩ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ২০১ কৃষক, ৫৮ গৃহিণী, ৪ প্রতিবন্ধী, ২৮ ভ্যানচালক, ১২ ভিক্ষুক এবং অন্যান্য ১৪ জন।

রংপুর ব্যুরো : রংপুরে ৮১৯টি গৃহহীন পরিবারকে দেওয়া হলো ঘর। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেয়ে অনেক খুশি এসব পরিবার। চলতি মাসে বাকি ৪৬৪ পরিবারকে দেওয়া হবে বিনামূল্যের ঘর। জেলায় ১ হাজার ২৭৩টি ঘর পাবে ভূমিহীন পরিবার।

ঘর-জমি বিদ্যুৎ পেয়ে অত্যন্ত খুশি ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবার শিরা রানি মহন্ত। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়াও করলেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনোদিন ভাবিনি এ রকম পাকা বাড়ি এবং সুন্দর ঘরে থাকব।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, প্রথম পর্যায়ে ৮১৯ ঘর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকিদের দেওয়া হবে। জেলায় ৬ হাজার পরিবারকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে ঘর।

অনুষ্ঠানে ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলীমা বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান সাজু মিয়া লাল, রাবিয়া বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরিফুল ইসলাম, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।

 

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close