নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

দেশে মৃত্যু বাড়ল আবার

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু আগের দিনের চেয়ে বাড়লেও শনাক্ত ৫০০-এর ঘরে নেমেছে। এদিন আরো ২১ জন মারা গেছে। এ নিয়ে দেশে কোভিডে মোট মৃত্যু হলো ৭ হাজার ৮৮৩ জনের। এ ছাড়া আরো ৫৭৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় শনাক্ত সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৩। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৬৩৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৬ জন হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৯টি ল্যাবরেটরিতে ১২ হাজার ২১২টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ২১৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭টি।

------
নমুনা পরীক্ষার হার ৪ দশমিক শূন্য ৭৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ জনের দশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন এবং ষাটোর্ধ্ব ১২ জন রয়েছেন। বিভাগীয় হিসেবে মৃতদের মধ্যে ঢাকায় ১৩ জন, চট্টগ্রামে ছয়জন এবং রংপুরে দুজন রয়েছেন।

এদিকে সারা বিশ্বে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এর মধ্যে ইউরোপে মিলেছে করোনার নতুন ধরন, যা আগের ভাইরাস থেকে অনেকটা শক্তিশালী বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে করোনায় বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯ কোটি ৪৩ লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ লাখ।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ৪১ লাখ ২ হাজার ৪২৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ১ হাজার ৮৫৬ জনের। আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ১ কোটি ৫৪ লাখ ৩ হাজার ৬৫৯ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ১৩০ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েক ধাপ বাড়ানোর পর গতকাল শনিবার পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ছিল। সেই ছুটি ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

 

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close