মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

  ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

পদ্মা সেতুর বাকি আর এক স্প্যান

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১১ ও ১২ নম্বর খুঁটির ওপর ৪০তম স্প্যান বসানো হয়েছে। ফলে দৃশ্যমান হলো সেতুর ছয় কিলোমিটার। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে স্প্যানটি বসানো হয়। ৩৯তম স্প্যানটি বসানোর সাত দিনের মাথায় এই স্প্যানটি বসানো হলো। সম্পূর্ণ সেতু দৃশ্যমান হতে বাকি থাকল মাত্র একটি স্প্যান; যা ১৬ ডিসেম্বরের আগে ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটিতে বসানো হবে। ৪১তম এই স্প্যানটি মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্রস্তুত আছে। এর আগে ২৭ নভেম্বর মাওয়ায় ১০ ও ১১ নম্বর খুঁটির ওপর ৩৯তম স্প্যানটি বসানো হয়েছিল।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেন দিয়ে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪০তম স্প্যানটি নির্ধারিত খুঁটির সামনে নেওয়া হয়। কারিগরি সব ধরনের কাজ শেষ করে স্প্যানবাহী ভাসমান ক্রেনটি নোঙর করে রাখা হয়। আজ (গতকাল) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। ১০টা ৫৮ মিনিটে স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হয়। এদিকে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাব। এর মধ্যে ৩০ নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী এক হাজার ২৩৯টি রোড স্লাব বসানো হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্লাব বসানো হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে এক হাজার ৮৬০টি।

------
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ৪০টি স্প্যান। ৪২টি খুঁটির ওপর ১৫০মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪১তম স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। সবকটি খুঁটি এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেওয়া হবে।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়