ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গা ফেরাতে ফের আশ্বাস মিয়ানমারের

৬০ কোটি ডলার তহবিল ঘোষণা জাতিসংঘের

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চীনকে আবার আশ্বস্ত করেছে মিয়ানমার। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করতেও চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে প্রথমে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মন্ত্রীপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুুল মোমেনকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে এ কথা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই। সূত্র : ইউএনবি।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ঢাকায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দ্রুত শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরো ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

গত বৃহস্পতিবার যৌথভাবে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আয়োজিত ভার্চুয়াল দাতা সম্মেলনে মানবিক সহায়তা হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। যৌথ সমাপনী ঘোষণায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি সহায়তা বজায় রাখার বিষয়ে দাতা সম্মেলনের সহ-আয়োজকরা জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের জন্য মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুততার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

জেনেভা থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার প্রদান করতে হবে এবং দায়বদ্ধদের জবাবদিহি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুুল মোমেনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে ওয়াং ই বলেন, চীন রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে রোহিঙ্গাদের যাতে ফেরত নেওয়া যায় সে জন্য মিয়ানমার কাজ করবে বলে চীনকে আশ্বস্ত করেছে। তাদের টিকা বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন ওয়াং ই। করোনা মহামারি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। করোনা মহামারির কারণে চীনের যেসব প্রকল্প স্থগিত বা ধীরগতি হয়েছে সেগুলো করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানান ওয়াং ই।

পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যার বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ হত্যার দ্রুত বিচারের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের ওপর চীন সরকার আস্থাশীল। এ সময় আবদুল মোমেন তাকে জানান, এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

করোনা মহামারির কারণে চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা নবায়নের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান আবদুল মোমেন। এ বিষয়ে ওয়াং ই জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রবেশের বিষয়ে সে দেশের সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে ভিসা ও অন্য সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইটি চীনা ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগের বিষয়ে চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

"