কমছে আলুর দাম

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে কমতে শুরু করেছে আলুর দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে অনেকেই ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে আলু কিনতে পেরেছেন। আগের সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১০ টাকা কমে আলু পাওয়ায় ক্রেতারা খুশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আগের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে, তাই দামও কমেছে। ধীরে ধীরে আলুর দাম সরকার নির্ধারিত দামে চলে আসবে। এদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাকসবজি। চার ধরনের সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। রামপুরা ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

রাজধানীর রামপুরায় থাকেন আবুল হাসান। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। করোনাকালে তার বেতন অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় আলুসহ শাকসবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপদেই পড়েছেন তিনি। আবুল হাসান প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকাকে বলেন, এ মুহূর্তে এক কেজি আলু কিনতেই যদি ৫৫ টাকা লাগে, এর চেয়ে বড় বিপদ আর কী হতে পারে। এখন ৪০ টাকায় আলু মিলছে। আশঙ্কা ছিল, বৃষ্টির অজুহাতে দাম আরো বেড়ে যায় কি না, তবে তা ঘটেনি।

রামপুরা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ৪০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছি। বাছাই করে একটু ভালো মানের আলু বিক্রি করছি ৪৪ টাকায়। যেহেতু পাইকারি বাজারে দাম কমছে, আমরা খুচরা বাজারেও সেই হারে দাম কমাতে পারব।

কারওয়ান বাজারের আলু ব্যবসায়ী মো. হাফিজ জানান, পাইকারিতে প্রতি কেজি ভালো মানের আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা। এ ছাড়া মান অনুযায়ী ৩০ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, কোল্ডস্টোরেজগুলো এখন আলু ছাড়ছে। বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, এটি অব্যাহত থাকলে সামনে দাম আরো কমবে।

কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে চাচ্ছেন না হিমাগার বা কোল্ডস্টোরেজ ব্যবসায়ীরা। তারা মজুদ করে রাখতে চান। আগের বন্যা ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়েছে। এতে সবজির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়বে আলুর বাজারে। সেই প্রেক্ষাপটে হিমাগার ব্যবসায়ীরা আলু ছাড়তে চাচ্ছেন না।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত চার দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শুধু আলুই নয়, আমদানি করা পেঁয়াজের দামও কমেছে। চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭৫ টাকা। টিসিবির হিসাবে, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া দাম কমার তালিকায় রয়েছে চাল, ডাল, মুরগি ও জিরা।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সপ্তাহে কেজিতে চার টাকা কমেছে মোটা চালের দাম। আগের সপ্তাহে মোটা চাল ৫২ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার সেই চাল ৪৮ টাকায় তারা বিক্রি করছেন। একইভাবে চিকন ও মাঝারি চালের দামও কেজিতে ২-৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আজিবর রহমান।

এদিকে আলুর দাম কমলেও স্বাভাবিক হচ্ছে না কাঁচাবাজার। অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ওপরে। সেঞ্চুরি করেছে ৪ ধরনের সবজি। কোনোটার দাম ৭০ টাকা, কোনোটা ৮০ বা ৯০ টাকা। শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বরবটির সঙ্গে নতুন করে ১০০ টাকা কেজির তালিকায় নাম লিখিয়েছে উচ্ছে-করোলা। পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লাউয়ের পিস বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বাজারে নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

 

"