ব্রেকিং নিউজ

পদ্মা সেতুর ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয়েছে ৩৩তম স্প্যানটি। এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৪ হাজার ৯৫০ মিটার; অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। গতকাল সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে স্প্যানটি বসানো সম্পন্ন হয়। এর আগে ১১ অক্টোবর পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানো হয়। এদিকে, পদ্মা সেতু প্রতি বছর বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে বলে মনে করছে চীন। এছাড়া সেতুটি উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের দক্ষতার নাটকীয় উন্নতি ঘটাবে। ঢাকার চীনা দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ‘ওয়ান-সি’ নামের ৩৩তম স্প্যানটি পদ্মা সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে। এখন বসানো বাকি রয়েছে আটটি স্প্যান, যা বসবে আরো ৯টি খুঁটির ওপর। স্প্যানগুলো মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে সম্পন্ন প্রস্তুত রয়েছে। যার মধ্যে প্রস্তুত আছে চারটি ও দুটিতে রঙের কাজ চলছে। সেতুর ১ ও ২ নম্বর খুঁটির ওপর ওয়ান-এ স্প্যান, ২ ও ৩ নম্বরের ওপর ওয়ান-বি স্প্যান বসবে। এদিকে প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাবের মধ্যে ৮৭০টি, ২ হাজার ৯৫৯ রেল স্লাবের মধ্যে ১ হাজার ৪০০টি এবং ৪৩৮টি ভায়াডাক্ট গার্ডারের মধ্যে ১৯৫টি স্থাপন করা হয়েছে। মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩২টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৯টি স্প্যান তৈরি শেষ হয়েছে। সেগুলো মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে রয়েছে। ডিসেম্বর এর মধ্যে সব স্প্যান স্থাপন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৭-৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতু দৃশ্যমান হয়। গত ৩০ মে পর্যন্ত জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৮টি স্প্যান বসানো হয়। গত ৩০ মে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয় ৩০তম স্প্যান। এরপর চলতি বছরের ১০ জুন সেতুর জাজিরা প্রান্তের ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয় সেতুর ৩১তম স্প্যান। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানো হয়।

চীনা দূতাবাস জানায়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি আশপাশের অঞ্চলে উদ্বৃত্ত শ্রমের কর্মসংস্থানের সমস্যাটি অনেকাংশে সমাধান করেছে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়ক এবং রেলপথগুলো সংযুক্ত হবে। ফলে একটি নতুন পরিবহন রুট তৈরি হবে, যা উত্তর-দক্ষিণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং পর্যটন সম্পদের বিকাশ ও ব্যবহারে সহায়ক হবে। এছাড়া এটি উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে মানুষ এবং মালপত্র পরিবহনের দক্ষতার নাটকীয় উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে স্থানীয় লোকজনের হাজার হাজার বছর ধরে ফেরি পরিবহনের ওপর নির্ভরতার ইতিহাসের ইতি টানবে। প্রাথমিক আনুমানিক হিসেব অনুসারে, এ সেতুটি প্রতি বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে।

সেতুটি রাজধানীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পদ্মা নদী (গঙ্গা) জুড়ে ভারত মহাসাগর থেকে সরল রেখায় ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। নির্মাণকাজ শেষে এ সেতুটি মাওয়া ও জাজিরা সংযোগকারী প্রধান যানচলাচলের মহাসড়কে পরিণত হবে। চীনের বিখ্যাত চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চুক্তিবদ্ধ।

প্রকল্পটিতে সেতুটির মূল সেতু, মহাসড়কের কাছের সেতুগুলো এবং রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি সেতুর নির্মাণকাজ অন্তর্ভুক্ত। এ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এটিতে মূলত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পদ্মা নদীজুড়ে ৬ হাজার ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে মূল সেতু এবং দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ও বিমের মূল সেতু ও উভয় পাশে ৩ হাজার ৬৭৯ মিটার মোট দৈর্ঘ্যরে সংযোগ সেতু। প্রকল্পটির নকশা তৈরি করেছে আমেরিকার এইসিওএম কোম্পানি। সেতুটির নকশা ও নির্মাণকাজে অনেকগুলো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। যেগুলোর রয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্মত নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

 

 

"