করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়াল

দেশে আরো ৩৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৪৩ হাজার ৪৯৪ জন এবং মারা গেছেন ৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৭৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ কোটি ১৮ লাখ ৮ হাজার ৬৫৬ জন সুস্থ হয়ে গেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন ৭২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭২ জন। তার মধ্যে ৬১ হাজার ২৪৭ জনের অবস্থা গুরুতর।

করোনা-আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশে এখন পর্যন্ত ৬৮ লাখ ২৮ হাজার ৩০১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তালিকায় দুই নম্বরে রয়েছে ভারত এবং তিনে ব্রাজিল।

এরপর রাশিয়া, পেরু, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও সাউথ আফ্রিকা রয়েছে। তবে মৃত্যুর দিক থেকেও এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে মৃত্যু দুই লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারতে এখন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে ৮৩ হাজার ২৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ওয়ার্ল্ডওমিটার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে আরো ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ৫৯৩ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪ জন হলো। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৫৯ জনে দাঁড়াল।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ২ হাজার ৪৪৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪১২ জন হয়েছে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ১৫তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৮তম অবস্থানে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯৪টি ল্যাবে ১৩ হাজার ৬৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৭৯টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ জন, নারী ৮ জন। তাদের ৩৪ জন হাসপাতালে ও ২ জন বাড়িতে মারা গেছেন।

তাদের মধ্যে ২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

২০ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪ জন রাজশাহী বিভাগের এবং ২ জন খুলনা বিভাগের, ৩ জন বরিশাল বিভাগের এবং ১ জন করে মোট ২ জন সিলেট ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪ হাজার ৮৫৯ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৭৮৮ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৭১ জন নারী।

তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৪৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১ হাজার ৩২০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬৩০ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৮৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১১২ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ২ হাজার ৩৬৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ১৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩২৮ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪১২ জন খুলনা বিভাগের, ১৮৩ জন বরিশাল বিভাগের, ২১৮ জন সিলেট বিভাগের, ২২৯ জন রংপুর বিভাগের এবং ১০২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

 

 

"