রুশ ভ্যাকসিনের অনুমোদন প্রথম নিলেন পুতিনকন্যা

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদিমির পুতিন জানান, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে তার মেয়ে এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। গতকাল মঙ্গলবার রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

পুতিন জানান, মঙ্গলবার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি করোনার এই ভ্যাকসিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পেয়েছে। এই ভ্যাকসিনের গণহারে উৎপাদন শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, তার এক মেয়ে ইতোমধ্যে রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনার এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তার মেয়ের শরীরের তাপমাত্রা হালকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই তা কমে যায়।

এর আগে পুতিন তার ফেসবুক পোস্টে জানান, কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে রুশ বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ধাপ পার হয়ে এসেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, এই ভ্যাকসিন নিরাপদ ও এটি কার্যকর।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আমাদের ওষুধটি এই মহামারির বিরুদ্ধে খুব কার্যকর এবং এটি শুধু রাশিয়ার জন্য আশা জাগায়নি বরং গোটা বিশ্বের জন্যই সুখবর নিয়ে এসেছে। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের স্যাটেলাইটই মানবজাতিকে মহাশূন্যে নিয়ে গিয়েছিল। এবার রাশিয়ান এই ভ্যাকসিনটিও করোনামুক্ত বিশ্বের পথ দেখাবে।

এদিকে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে স্পুটনিক নিউজ সম্প্রতি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে থাকা ভ্যাকসিনটি ১২ আগস্টের (আজ বুধবার) মধ্যে অনুমোদন পাবে। এর আগে গত ১২ জুলাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে শেষ করেছে তারা। এরপর ২২ জুলাই রুশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত।

এ মাসের শুরুতে রাষ্ট্রীয় রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জানায়, অক্টোবর মাস থেকে জনগণকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে রাশিয়াকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

"