ঈদের পর মশার উপদ্রব

দুই সিটি করপোরেশনে অভিযান অব্যাহত

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

হাসান ইমন

ঈদুল আজহার পর রাজধানীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। এ সময়ে বংশবিস্তারে থেমে নেই ডেঙ্গুবাহিত এডিশসহ কিউলেকস মশা। তবে আশার কথা হলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) মশা নিধনে মাঠে নেমেছে। এরই মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন তৃতীয় দফায় ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ডিএসসিসি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে সংস্থাটি। ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ১০ দিনব্যাপী (৮-১৮ আগস্ট) তৃতীয় দফা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। গত শনিবার থেকে গতকাল রোবার পর্যন্ত ২ দিনে ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ২৬ হাজার১২০টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ১৬৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং এই ২ দিনে মোট ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর আগে গত ১৬-২০ মে পরিচালিত চিরুনী অভিযানে ৯ হাজার ৪৬৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৮৭টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এসময় ৪লাখ ৫৮ হাজার ৩০০ টাকা জরিমান করা হয়। পরবর্তীতে ৬-১৪ জুন চিরুনী অভিযানে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ১ হাজার ৬০১টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এসময় ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ৪-১৪ জুলাই দ্বিতীয় দফার চিরুনী অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৮টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ৮৯৮টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এসময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশা নিধন কার্যক্রম চালিয়েছে ডিএনসিসি।

মশা নিয়ন্ত্রনে গতকাল এডিশ মশা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য ডিএনসিসি একটি সচেতনতামূলক অডিও-ভিজুয়াল নির্মাণ করে। গতকাল এটির উদ্বোধন করেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রনে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। এ ধরনের অডিও-ভিজুয়াল মানুষকে সচেতন করতে সহায়তা করবে। মনে রাখতে হবে তিনদিনে একি দিন, জমানো পানি ফেলে দিন। এটাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রনের মূলমন্ত্র।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি তৃতীয় পর্যায়ে চিরুনী অভিযান সর্বাক্তকভাবে সফল করতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, গনমাধ্যম কর্মীরা এবং ডিএনসিসির সর্বস্তরের জনগনকে আহবান জানান।

চিরুনি অভিযান চলাকালে যেসব স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে চিরুনি অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে। ডাটাবেস অনুযায়ী পরবর্তীতেও তাদেরকে মনিটর করা সহজ হবে।

চিরুনি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সাব-সেক্টরে ডিএনসিসির চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন মশক নিধনকর্মী বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা আছে কি না তা দেখছে। এ ছাড়া কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে আছে কি না, ময়লা-আবর্জনা আছে কী না তা পরীক্ষা করছে। চলমান এই চিরুনি অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নয়জন কীটতত্ত্ববিদ, ডিএনসিসির তিনজন কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছে।

এদিকে মশা নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনারেল (ডা.) মো. শরিফ আহমেদ বলেন, মশা নিধনে আমাদের বছর ব্যাপী মশা নিধন কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। এছাড়া জলাশয় পরিষ্কার করা হয়েছে এবং আরো কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ফগিং মেশিনের মাধ্যমে সকাল বিকেল দুই দফায় মশার ওষুধ স্প্রে কার্যক্রম চলমনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ইতিমধ্যে ডিএসসিসি এলাকার সবাইকে সতর্কতামুলক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যেন কেউই অভিযোগ তুলতে না পারেন।

 

"