বিনোদন প্রতিবেদক

  ১৮ আগস্ট, ২০২২

বিশ্বজিৎ নন্দীকে নিয়ে বিটিভির নাটক ‘নন্দিত বন্দী’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে বিশ্বাসঘাতকের দল নির্মমভাবে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। ঘাতক দখলদার দেশে কারফিউ জারি করে। পিতার বিয়োগে বোবা কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা জাতি। এই নির্মম খবর শুনে জাতির পিতার আদর্শের বীরজনতা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

তাদেরই একজন বিশ্বজিৎ নন্দী। জাতির পিতার প্রতি বিশ্বজিতের জীবন উৎসর্গকৃত ভালোবাসা ও প্রতিরোধের সত্য ঘটনা বলা হয়েছে ‘নন্দিত বন্দী’ নাটকে। এটি রচনা করেছেন ফজলুল হক আকাশ এবং প্রযোজনা করেছেন আব্দুল্যাহ আল মামুন। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নরেশ ভূঁইয়া, সমু চৌধুরী, শতাব্দী ওয়াদুদ, নয়ন চৌধুরী, শিল্পী সরকার অপু, দীপা খন্দকার, খলিলুর রহমান কাদেরী, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

ঘাতক সরকার যখন রাজাকারদের বগলতলায় নিয়ে মুজিবের নাম মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তখন বিশ্বজিতরা ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ ‘শহীদ মুজিব দিবস’ পালন করার উদ্যোগ নেয়। সারা দেশে ডাক দেওয়া হয় হরতালের। বিশ্বজিতসহ ছয় সদস্যের দল মুক্তাগাছা ও মধুপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। হরতাল পালনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় মরণযুদ্ধ। সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধা বিশ্বজিৎ নন্দী ১৯৭৬ সালের ১৪ আগস্ট আহত অবস্থায় সেনাসদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৭ সালের ১৮ মে সামরিক আদালতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। সেই থেকে প্রায় চৌদ্দ বছর এই বীরকে কাটাতে হয় বন্দিজীবন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আশির দশকে বিশ্বজিৎ নন্দীসহ সব প্রতিরোধ যোদ্ধা কারাবন্দির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।

শেখ হাসিনার আন্দোলনের চাপের মুখে স্বৈরশাসক ১৯৮৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই বীরকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বজিত নন্দী ও তার সহযোগী সব বিপ্লবীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটক ‘নন্দিত বন্দী’। প্রচারিত হবে আগামী ২০ আগস্ট শনিবার রাত ৯টায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close