reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৭ ডিসেম্বর, ২০২২

গমের বাজারে স্থিতিশীলতা কাম্য

এটা যেন রীতি হয়ে গেছে, কোনো জিনিসের দাম বাড়লে সেটা আর কমে না। আরেকবার তার প্রমাণ পাওয়া গেল। বিশ্ববাজারে গমের দাম কমলেও বাড়ছে দেশের বাজারে। যুদ্ধের ফলে রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে গম আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। কারণ ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতের অপেক্ষায় থাকেন। এবারের মোক্ষম অজুহাত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ; তা কি আর হাতছাড়া করা যায়! এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডলার স্বল্পতা। বলা হচ্ছে, গম আমদানিতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে অনীহার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারের নানা উদ্যোগে গমের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমরা আশা করি, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বলা সংগত, অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ গম স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়, বাকিটা আমদানি করতে হয়। যার ৬২ শতাংশ আসে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ভারত থেকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পর রাশিয়া গম রপ্তানি বন্ধ করে দিলেও পরে বিধিনিষেধ শিথিল করলে বাংলাদেশ এর অধীনে চলতি বছরের মে মাসে ১ লাখ টন গম পেয়েছিল। এছাড়া সর্বশেষ মে মাসে ৪৬ হাজার ৬৫৫ টন ইউক্রেনীয় গম আসে বাংলাদেশে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গমের শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা দিচ্ছে। অর্থাৎ ডলারের দাম বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মন্দা ও ভারতের গম রপ্তানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের কারণ ছাড়া আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে থেকে অক্টোবরে গম আমদানির পরিমাণ ৪৯ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ২০ হাজার টন হয়েছে। প্রতিবেদনে রয়টার্সের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম এর আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি টনে ৩৭১ দশমিক ৪৮ ডলার হয়েছে। গত ১ মাসেই গমের দাম ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে। ২৩ অক্টোবর ১ টন গমের দাম ৩৯৫ ডলার ছিল। এই সময়ের মধ্যে ঢাকায় আটার দাম প্রতি কেজিতে ৯ শতাংশ বেড়ে ৬০ থেকে ৬৩ টাকা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশি^ক ধারার বিপরীতে যাচ্ছে। নিত্যপণ্য আমদানিকারকও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আটার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দরকে দায়ী করেছে। তবে ভোক্তা অধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শুধু ডলারের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে আটার দাম বাড়তে পারে না। এর সঙ্গে রয়েছে অবৈধ মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজি।

ভাতের বিকল্প হিসেবে গম অর্থাৎ আটা একটি আবশ্যকীয় পণ্য। সে প্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, ব্যবসায়ীদের শুধুু ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে বের হয়ে আসা উচিত। সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে কোনো ব্যবসা হতে পারে না। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজারের ওপর নজরদারি রাখলে কোনো পণ্যেরই দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ত না। তাই গমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে কোনো অহেতুক ভোগান্তির শিকার না হতে হয়। আর এটাই আমাদের কাম্য।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close