reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৪ নভেম্বর, ২০২২

পুলিশকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে

পুলিশের কাজ হলো জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। যেকোনো হুজ্জত-হাঙ্গামা থেকে মানুষকে রক্ষা করা। বলতে গেলে সব কাজই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে অনেক সময় পুলিশকে হতাহতের শিকারও হতে হয়। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, পুলিশ যখন নিজেদের জীবনবাজি রেখে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করছে, সেক্ষেত্রে পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুলিশ সর্বদা অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করে। যারা অপরাধী তারা ভয়ানক ও বিপজ্জনক। তাই তাদের আইনের আওতায় আনতে গেলে অনেক ধরনের ঘটনাই ঘটে।

বলা সংগত, সম্প্রতি ঢাকার আদালত চত্বর থেকে দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার পর থেকে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদারে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আদালতের হাজতখানায় যুক্ত হয়েছে ৬০টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট। বড় সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গি আসামি আনা-নেওয়ার সময় এখন থেকে পুলিশ সদস্যরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরবেন। এ ছাড়া আসামি আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। দুই জঙ্গি আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন অনেক বেশি সতর্ক। এ ধরনের নিরাপত্তা যদি সারা বছর থাকে, তাহলে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী অনেক উপকৃত হবেন। জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা অন্য কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কমে যাবে। মনে রাখতে হবে, পুলিশ বাহিনী আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী। বস্তুত, পুলিশ রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে আইন কার্যকর, সম্পত্তি রক্ষা, সামাজিক ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত। তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও জবাবদিহি চাকরিবিধি, প্রচলিত আইন এবং সংবিধান দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। সাধারণত পুলিশ বাহিনীকে সামরিক বা অন্যান্য বিদেশি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে দেশ প্রতিরক্ষায় জড়িত প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। কারণ, এই বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে- দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তা বিধান। এ ক্ষেত্রে আমাদের পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশাত্মবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দেশের পুলিশ অত্যন্ত পেশাদার ও সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। স্বাধীনতাযুদ্ধেও এই বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ও অপরাধপ্রবণ পুলিশ সদস্যের কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী ইমেজ সংকটে পড়েছে। আমরা আশা করি, এ অবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীকে যাতে কোনো ধরনের ইমেজ সংকটে পড়তে না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যথায় কিছু অসৎপ্রবণের কারণে পুরো বাহিনীই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সংকটে পড়বে; ব্যাহত হবে সুশাসন।

বাংলাদেশ পুলিশ এক ঐতিহ্যনির্ভর বাহিনীর নাম। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে সুবিশাল এ বাহিনীর হাতে। একটা কথা আছে, পুলিশ জনগণের বন্ধু। দেশের সব সুখণ্ডদুঃখের অংশীদার। দেশ একটা শরীর আর তার অঙ্গ হলো বিভিন্ন বাহিনী, কর্মচারী-কর্মকর্তা, সাধারণ মানুষ। সব মানুষ মিলেই এক শরীর আর তার নাম বাংলাদেশ। পুলিশ জনগণের জনগণ পুলিশের- এ কথার সত্যতা প্রমাণ হোক।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close