reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২১ নভেম্বর, ২০২২

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। এখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জ্ঞানের চর্চা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় আর গবেষণা সমার্থক শব্দ। শুধু স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদানই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ নয়। গবেষণার জন্যই মূলত স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়ে থাকে, যারা পরবর্তী সময়ে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত হবেন; জ্ঞানের নতুন নতুন দিক উন্মোচন করবেন। মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানে জাতিকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়া, পথ দেখানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত। দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণায় এখনো বেশ পিছিয়ে আছে। গবেষণার জন্য শিক্ষকদের আগ্রহ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের গবেষণায় আগ্রহ না থাকায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষাও বিঘিœত হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্ম বস্তুগতভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাদের জ্ঞানগত দিকে তেমন উন্নতি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বৃদ্ধির জন্য গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের নেতৃত্বের প্রতীক এবং ভাষা আন্দোলন, মুক্তি সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। শনিবার (১৯ নভেম্বর) হয়ে গেল এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। তিনি তরুণ গবেষকদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের এজন্য বিদেশে পাড়ি দিতে না হয়। রাষ্ট্রপতি আশা করেন, উপাচার্যের নেতৃত্বে ও ছাত্র-শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমাজে শিক্ষকদের সম্মানের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। কিছুসংখ্যক অসাধু লোকের কর্মকাণ্ডের জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষকসহ যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি স্নাতক ডিগ্রিধারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গ্র্যাজুয়েটরা যেন সমাবর্তন আর সার্টিফিকেটেই সীমাবদ্ধ না থাকেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধিকতর কার্যকর অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কতিপয় শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিকে ঐচ্ছিক দায়িত্ব মনে করেন। বৈকালিক কোর্স বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়াকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এই চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা ঠিক হবে না। নিজেদের গবেষণা অব্যাহত রাখা এবং নতুন গবেষক তৈরিতে তাদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে যেন মানবজাতি ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে সেভাবেই তাদের অনুপ্রাণিত এবং উদ্ধুদ্ধ করতে হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close