reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হে মহীয়সী নারী শুভ হোক জন্মদিন

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন। ৭৫ পেরিয়ে গেছে তার উচ্চতা। ৭৬-এ পা রেখেছেন তিনি। ১৯৪৮ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাদার ভিটাতেই তার জন্ম। জাতির জনকের প্রথম সন্তান তিনি। প্রথম সন্তান বলেই সংসারে আদরটা একটু বেশি, আর কন্যাসন্তানের মূল্য পিতার কাছে কতটা বেশি তা আর নতুন করে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। প্রকৃতিই যেন এ অধিকারটা পিতা ও কন্যাসন্তানকে নিজের হাতেই তুলে দিয়েছে। যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান হয়ে বেড়ে ওঠে আজ যোগ্য আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশ ও জাতিকে।

তোমার জন্মদিন মানেই গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম, বাংলাদেশের পুনর্জন্ম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনকের সপরিবারে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অপমৃত্যু হয়েছিল। এ সময় তিনি দেশের বাইরে থাকায় জীবনে বেঁচে যান। তার এই বেঁচে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের মানুষ গণতন্ত্রসহ ভোট-ভাতের নিশ্চয়তা পেয়েছে। স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন থেকেই শুরু হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক সংগ্রামী অধ্যায়। তৈরি করেন বীরত্বের এক অনন্য উপাখ্যান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হিসেবেই জননেত্রী শেখ হাসিনা হয়ে উঠলেন সময়ের এক ফিনিক্স পাখি। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠে তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করলেন দেশের আপামর মানুষের কল্যাণে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেল দেশের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য।

তার সুচিন্তিত ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে দেশের মানুষ আজ একটি উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সমান দক্ষতায় দেশ পরিচালনা করছেন বলেই বাংলাদেশের সামনে তিনি হাজির করতে পেরেছেন ভিশন-২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১। আমরা আশা করতেই পারি, তার দিকনির্দেশনার পথ ধরেই বাংলাদেশ এক দিন উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে গিয়ে দাঁড়াবে। তারই সুদক্ষ নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল।

দুই দশক ধরে টানা দেশ পরিচালনা করে তিনি উন্নয়নের যে চমক দেখিয়েছেন- তার প্রশংসা না করলেই নয়। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু আইটি পার্ক। শতাধিক ইপিজেড নির্মাণের কাজ চলছে। বেশির ভাগ মহাসড়কে ফোর লেন ও সিক্স লেনের সংযোজন ঘটানো হয়েছে এবং হচ্ছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তা সফল করেছেন। এছাড়া রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ তার সরকারের গৃহীত দশটি মেগাপ্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পথে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যাকে আমরা আমাদের গৌরব ও অহংকারের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। এগুলো সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো সুসংহত হবে। বেকার সমস্যা বহুলাংশে কমে আসবে। আর বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের পথে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে নেতৃত্ব হতে হবে সেই মহীয়সী নারীর মতো। যে নারীর আজ জন্মদিন। তোমাকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close