reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৩ জুন, ২০২২

একটি রাষ্ট্রের সূতিকাগার

ভারত ভাগ হয়ে জন্ম নিল দুটি রাষ্ট্র। সময়টা ১৯৪৭। একভাগে পাকিস্তান, বিপরীতে ভারত। তবে পাকিস্তানের বিভাজনটি ছিল চোখে পড়ার মতো। এক খণ্ডে পাকিস্তান, অন্যখণ্ডে পাকিস্তান। মাঝখানে ভারত। পূর্বের সঙ্গে পশ্চিমের দূরত্ব থেকে গেল ১ হাজার ২০০ মাইল। যে দূরত্ব বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত আলোকবর্ষ মাইল দূরত্বে পর্যবসিত হলো। পাকিস্তান তার রাষ্ট্রকে ধরে রাখতে পারল না। না পারার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নিয়তেই গোলমাল। ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি ও চেতনায় গরমিল। চেতনায় ঐক্য না হলে যেমন প্রেম হয় না, এভাবে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে কখনোই সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ওঠেনি বলেই আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি পরিহার করে নতুনভাবে জন্ম নিতে হলো একটি রাজনৈতিক দলকে। বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম নিল অওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু থেকেই এ দলটি সব সময়ই নেতৃত্বে থেকেছে। আজও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। আজও আওয়ামী লীগ নিঃসন্দেহে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালে ঢাকার টিকাটুলির কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেন প্যালেসে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর আন্দোলন আর সংগ্রামের ইতিহাস।

সোনার চামচ মুখে দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়নি। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কৈশোর ও যৌবনকে পার করতে হয়েছে। তবে একটি কথা না বললেই নয়, সে সময় মওলানা ভাসানীসহ অনেক নেতাই আওয়ামী লীগের ছাতার তলায় এসেছিলেন। কিন্তু কেউই বাঙালি জাতির জাতীয়তাবোধ ও জাতিসত্তাকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অথবা নেতাকে তেমনভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ও একমাত্র নেতা শেখ মুজিবকেই চোখে পড়েছে। তাই জাতিকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পুরো জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে যে দল, সে দলের নাম আওয়ামী লীগ।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে ব্রিটিশ শাসকের বিদায় হলেও শোষণ ও নিপীড়নের মাত্রা কমল না। চক্রবৃদ্ধিহারে তা বাড়তে লাগল। পাকিস্তানি শাসকরা যেন দাসেদের মতো বাঙালিদের ব্যবহার করার পরিকল্পনায় মেতে উঠল। বাঙালিকে শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সামাজিক ও সংস্কৃতিকভাবেও পঙ্গু করে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছে। ভাষার প্রশ্নে প্রথম তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। দুশো বছরে ব্রিটিশরা যা সাহস করেনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তা দুবছরে করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। বাঙালি জাতি সব সময়ই ছিল আপসহীন। ভাষার প্রশ্নে তারা চিম্বুক পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে গেল দৃঢ়তায়। রাজপথেই ফয়সালা করল। আর এই আন্দোলনের বৃহৎ অংশজুড়েই রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যবর্র্তী সময়ের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও বাঙালির অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এটাই সত্য এবং ইতিহাস তার সাক্ষী। বাঙালি জাতির সব অর্জন এ দলের হাত ধরেই এসেছে। আর সব সময় এ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি আজ আমাদের জাতির পিতা। এটি কারো অনুদান নয়। তিনি তার মেধা ও পরিশ্রম এবং ভালোবাসা দিয়ে যা অর্জন করেছিলেন। আজ আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই মহান নেতাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে বাংলাদেশ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close