reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২১

নৈরাজ্যের অসুখ

নৈরাজ্য একটি অসুখের নাম। এ অসুখের ওষুধ আছে। চিকিৎসকও আছেন। কিন্তু সমাজে যখন সঠিকভাবে ওষুধের প্রয়োগ হবে না, তখন রোগ বাড়বে, সংক্রমিত হবে। সব রোগের ক্ষেত্রে একই সংলাপ। সংক্রমিত হলে তা সমাজের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়বে। আমরা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে হাতেনাতে তার প্রমাণ পেয়েছি। কিন্তু সরকার এবং আমজনতার যৌথ প্রতিরোধে আমরা সফল হয়েছি। সরকার সময়মতো প্রতিরোধে এগিয়ে না এলে আমাদের ক্ষতির পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারত, এখনো তা আমাদের কল্পনার বাইরে।

সমাজে ঘটে যাওয়া সব নেতিবাচক ঘটনাকে প্রতিহত করতে গিয়ে সব সময় যে সফলতা আসবে- এমনটাও হতে পারে না। এ কথা সবারই জানা। সফলতা থাকবে, পাশাপাশি ব্যর্থতার গ্লানিও আমাদের বরণ করে নিতে হবে। এ রকম অনেক ব্যর্থতা বহন করে চলেছে এ দেশের সাধারণ মানুষ। যার একটির নাম বাড়িভাড়ায় নৈরাজ্য। এ রোগ থেকে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তেমন কোনো নমুনা চোখে পড়ছে না। প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে কি এখনো কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি? নাকি চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে? জানা মতে, ওষুধের ঘাটতি নেই। প্রয়োজনের চেয়ে ডাক্তারের সংখ্যাই বেশি। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবহেলা। এই অবহেলাই ক্রমাগত সমাজকে করছে কলুষিত। আলোকিত বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের দিকে। যা আমাদের কারো কাম্য হতে পারে না।

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-১৯৬৪ তে রয়েছে, ভাড়াটিয়া ব্যক্তি বাসা বা দোকান ভাড়া নেওয়ার দুই বছর পার না হলে মালিক ভাড়া বাড়াতে পারবেন না। ভাড়া পরিশোধ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়ার দরখাস্তের ভিত্তিতে দুই বছর পর পর ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক’ যাচাই-বাছাই করে মানসম্মত ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করবেন। এর ব্যত্যয় হলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বাড়ির মালিকরা এ আইনের কোনো পরোয়াই করেন না। তাদের প্রভাবের কাছে ভাড়াটিয়ার করার কিছু থাকে না। তাদের কাছে আইন, হনুজ দুরস্তের শামিল হয়ে পড়ে।

দুই বছর অন্তর অন্তর ভাড়া বাড়ানোর নিয়ম থাকলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাড়িভাড়া বৃদ্ধির নোটিস পাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। মালিক তার ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন। এখানেও দেশের আইন উপেক্ষিত হয়েছে এবং হচ্ছে বারংবার। সমাজের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। এই নৈরাজ্য তদারকির জন্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বিদ্যমান থাকার পরও তদারকিতে দেখা যায় না কোনো সংস্থাকে। সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান আছে এবং থাকবে, তবে থাকবে না কেবল কার্যক্রম। এটাই আমাদের সমাজের এক অলিখিত নিয়ম। যুগ যুগ ধরে যা চলে আসছে। ইদানীং যার মাত্রা নাগালের ভেতরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ঢাকা শহরে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা কত? কারো কাছে সে পরিসংখ্যান নেই। থাকলে ভালো হতো। সরকারের আয় কিছুটা হলেও বাড়ত। বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মাসিক কত আদায় করছেন, তারও একটা হিসাব থাকত। যেখানে সরকার নিজেই জানে না ভাড়াটিয়ার সংখ্যা কত, সেখানে আয়কর বসাবে কীভাবে। অনেকটা হযবরল অবস্থা। এ তো গেল সরকারের লাভ-ক্ষতির একটা দিক। কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ? এর কি কোনো প্রতিকার হবে না? এ প্রশ্ন আজ ঢাকায় বসবাসকারী প্রায় প্রতিটি ভাড়াটিয়ার।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close