reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব আমাদের প্রত্যাশা

বিশ্বে যথেচ্ছভাবে সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে। যা চূড়ান্ত পরিণতি ধ্বংস ছাড়া মানুষের কোনো কল্যাণেই আসছে না। অথচ এই সম্পদের যদি সঠিক ব্যবহার হতো, তাহলে অনেক দুর্যোগ দুর্বিপাক থেকে রক্ষা পেত পৃথিবী। শান্তির সুবাতাস বইত দেশে দেশে। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে যদি একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হতো। তাহলে বিশ্বব্যাপী সংঘাত,

হানাহানি অনেকাংশে হ্রাস পেত। মানুষ পেত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী। এই আস্থার সঠিক অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যেই অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সর্বজনীন টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবাইকে তাদের সম্পদ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির এই বৈশ্বিক সংকটকালে অস্ত্র প্রতিযোগিতার মতো নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যদি সর্বজনীন টেকসই উন্নয়নে সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব হতো, তাহলে অনুন্নত বা দরিদ্র দেশগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটত। কারণ দুই বছর ধরে করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বব্যবস্থাকে এক নতুন সংকটের মুখোমুখি করেছে। এই সংকট প্রমাণ করেছে বিশ্ববাসী কেউই আলাদা নয়। সেক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবে এই পৃথিবীতে বসবাস করতে হলে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি জবাবদিহিমূলক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গত রবিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশ্বশান্তি সম্মেলনের সমাপনী দিনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তির আদর্শকে পুরোপুরি ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমঝোতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত বলেও জানান। স্বাধীনতায় বাঙালি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। এরমধ্য দিয়ে শান্তির মূল্য এবং সমগ্র মানবজাতির গভীরতম আকাক্সক্ষা আমরা সবাই অনুধাবন করেছি। এ কথা অনস্বীকার্য যে, আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। তা এক দিনের অর্জন নয়, তার মূলে রয়েছে পরপর তিনবারসহ চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম। যার সঠিক নির্দেশনায় দেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ ২১ বছরের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতীত গোটা দেশেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। জাতি আজ তার সুফল ভোগ করছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আরো উঠে এসেছে জাতির পিতার শান্তির দর্শন। যিনি স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র ৯ মাসেই একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন।

বলা সংগত, সেই সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বকে রেখেছেন আমাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সেই সঙ্গে শক্তি প্রয়োগ পরিহার, সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, নিজ নিজ আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সংগত সংগ্রামকে সমর্থন দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে এর ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে-

এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close