মো. আরাফাত রহমান

  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১

বিশ্লেষণ

পর্নোগ্রাফির বিষবাষ্প মুক্তি মিলবে কবে

অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে ইন্টারনেট আজ হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের এই সহজলভ্যতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে, তেমনি তরুণ সমাজের জন্য নিয়ে এসেছে পর্নোগ্রাফি নামক এক ভয়াবহ বিপদ। বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞার্থ প্রদানে বলা হয়েছে, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য-চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থিরচিত্র, অঙ্কিত চিত্রাবলি বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণ ও প্রদর্শনযোগ্য বিষয় যার কোনো শৈল্পিক মূল্য নেই তা পর্নোগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হবে। অধিকন্তু, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, পত্র-পত্রিকা, ভাস্কর্য, কল্প-মূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা প্রচারপত্র পর্নোগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হবে। এসবের নেগেটিভ বা সফট ভার্সনও পর্নোগ্রাফি হিসেবে গণ্য হবে।

পর্নোগ্রাফি আসক্তি হলো আসক্তির একটি প্রস্তাবিত মনোবৈজ্ঞানিক মডেল, যার সাহায্যে নেতিবাচক শারীরিক, মানসিক, সামাজিক অথবা আর্থিক পরিণতি ঘটা সত্ত্বেও, কোনো ব্যক্তির পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার দ্বারা তাড়িত অমোঘ যৌন ক্রিয়াকলাপকে ব্যাখ্যা করা হয়। ইঙ্গিতনির্ভর প্রতিক্রিয়া পরীক্ষার মাধ্যমে সাইবারসেক্সের পারিতোষিক ও ক্রমশ আকর্ষণ শক্তিশালীকরণমূলক বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সমস্যাপ্রবণ ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি দেখা বলতে বোঝায় এমন কোনো উপায়ে পর্নোগ্রাফি দেখা যেটি একজন ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগত বা সামাজিক দিক থেকে ক্ষতিকর এবং সমাজের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সামাজিকতার জন্য বরাদ্দ করা মূল্যবান সময় সেটি দেখার পেছনে ব্যয় হয়। আসক্ত ব্যক্তিরা বিষণœতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, চাকরি হারানো, বেকারত্ব অথবা তাদের সামাজিক জীবনের ওপর পর্নোগ্রাফির কুপ্রভাবের কারণে আর্থিক সংকটসহ নানান অসুবিধায় ভুগতে পারেন।

পর্নোগ্রাফি আসক্তি বা সমস্যাপ্রবণ পর্নোগ্রাফি দেখাকে রোগ হিসেবে শনাক্তকরণের জন্য কোনো সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ড নেই। পর্নোগ্রাফি দেখাকে মানসিক রোগ হিসেবে নির্ণয়ের যথার্থতার বিষয়কে ঘিরে তুমুল তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু চিকিৎসক এবং সংস্থা ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্টারনেট কন্টেন্ট-কন্ট্রোল সফটওয়্যার ও ইন্টারনেট নজরদারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অধিকাংশ সাফল্যজনক গবেষণাতেই সুবিধাজনক নমুনা জনগোষ্ঠী ব্যবহার করা হয়। এমনি একটি গবেষণায় ৯ হাজার ২৬৫ জনের একটি সুবিধাজনক নমুনা জনগোষ্ঠী ব্যবহার করে জানা যায় যে এদের এক ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী স্পষ্টতই সাইবারসেক্সে আসক্ত এবং ১৭ শতাংশ ব্যবহারকারীই সমস্যাপ্রবণ যৌন আসক্তি নির্ণয়ের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হন। অর্থাৎ তারা যৌন আসক্তি স্কেলে গড় মানের প্রমাণ বিচ্যুতির চেয়ে এক পয়েন্টে বেশি স্কোর করেন। ৮৪ জন কলেজপড়ুয়া পুরুষের ওপর করা একটি জরিপে দেখা যায় যে, যারা পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করেন তাদের ২০-৬০ শতাংশ লোকই এটিকে সমস্যাপ্রবণ মনে করেন।

ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং দেখা গেছে ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি ব্যবহারই একমাত্র কার্যকলাপ যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীকে অমোঘ আচরণের দিকে ধাবিত করে। বিজ্ঞানীরা দাবি করে যে, অতিমাত্রায় পর্নোগ্রাফি দেখা অস্বাস্থ্যকর হতে পারে, যদি ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণে কোনো ব্যক্তির জন্য এটি সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে, যার মধ্যে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিনিময়ের পরিবর্তে পর্নোগ্রাফি দেখার পেছনে অতিমাত্রায় সময় ব্যয় করা অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তিবিশেষ তাদের অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে নিজ সামাজিক জীবনে অবনতিস্বরূপ মানসিক অবসাদ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পেশাজীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, নিম্নমুখী উৎপাদনশীলতা অথবা অর্থনৈতিক সমস্যার স্বীকার হতে পারেন। পর্নোগ্রাফিতে অতিমাত্রায় আসক্তরা অধিক হারে একাকিত্ব অনুভব করেন এবং যৌন অভিজ্ঞতাবিহীন পর্নো ভোক্তারা পর্নোগ্রাফিতে প্রদর্শিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজেদের শরীর ও যৌনক্ষমতার তুলনা করে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন।

হ্যালিফ্যাক্সে ইস্টওয়াইন্ড হেলথ অ্যাসোসিয়েটসের দুজন সাইকোথেরাপিস্ট তাদের ডাক্তারি অভিজ্ঞতা থেকে বলেন যে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে নিজ সঙ্গীদের সঙ্গে তাদের আবেগজনিত বিচ্ছেদ ঘটতে থাকে, এমনকি যদি সেই ব্যক্তিরা আবেগী ঘনিষ্ঠতা কামনা করে থাকেন তারপরও। ২০১৪ সালের American Psychological Association (APA)-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি পরিষ্কার নয় যে, পর্নোগ্রাফি সেই তথাকথিত প্রবাদের মুরগি নাকি ডিম। কোন ব্যক্তি কি এ কারণেই এর দিকে ঝুঁকেন যে তিনি তার সম্পর্কের প্রতি সন্তুষ্ট নন নাকি নারীরা নিজেরাই যৌনতার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন যখন তারা আবিষ্কার করেন তাদের সঙ্গী প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র তারকাদের সঙ্গেই তাদের উপযুক্ত সময়গুলো কাটাচ্ছে

বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী উৎপাদন বা দেখা বা প্রক্রিয়াজাত করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ২০০৯ সালের একটি প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, বাংলাদেশে শিশু পর্নোগ্রাফির হার বেড়েছে। ২০১৩ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রতি মাসে ঢাকার সাইবার ক্যাফে থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন টাকা মূল্যের পর্নোগ্রাফি ডাউনলোড করা হয়। গবেষণায় আরো দেখা যায় যে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিদের ৭৭ শতাংশের বয়স একদম কম। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত সামাজিক মিডিয়ায় অশ্লীল উপাদান প্রচার বন্ধের জন্য সরকারকে জিজ্ঞাসা করে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী তারানা হালিম পর্নোগ্রাফি ধারনকারী ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশের একাদশ সংসদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ২০১৮-এর নভেম্বর থেকে ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ থেকে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেন। এছাড়া ইন্টারনেটে কোন ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী পাওয়া গেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) শর্টকোড নম্বর ২৮৭২ এবং ই-মেইল [email protected] ঠিকানায় পর্নোগ্রাফি সাইটের ঠিকানা বা লিংক পাঠানো হলে তা বন্ধ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী পর্নোগ্রাফিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্নোগ্রাফি দেখা, বণ্টন করা, উৎপাদন, ব্যবহার করা ইত্যাদিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী এর সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের জেল অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি বহন, বিনিময়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা, বিক্রি প্রভৃতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রথমে আইনটি প্রস্তাব আকারে (বিল) মন্ত্রী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ২৯ জানুয়ারি তারিখে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। অতঃপর ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুমোদন লাভ করে। এই আইনানুযায়ী পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শন বে-আইনি ও নিষিদ্ধ। এই নিষিদ্ধ কর্মসম্পাদনের জন্য শাস্তির বিবিবিধান রাখা হয়েছে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা হয়েছে যেকোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদনের উদ্দেশে কোনো নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থির, ভিডিও বা চলচ্চিত্র ধারণ করলে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাবে। এই বিলে আরো বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে কারো সম্মানহানি করে বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে বা করার চেষ্টা চালায় তবে বিচারক দুই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি কারাদণ্ড আরোপ করতে পারবেন এবং তদুপরি, এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারবেন। শিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অধিকন্তু পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুসারে পর্নো সিডি বা ডিভিডি তৈরির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার ও তার আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে আলামত আটক করা যাবে। তল্লাশিকালে আটক সফট কপি, রূপান্তরিত হার্ডকপি, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইস, অ্যাক্সেসরিজ, মোবাইল ফোনের সিম, যন্ত্রাংশ, অপরাধ কাজে ব্যবহৃত অন্য কোনো যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম বা বস্তা আদালতে প্রমাণ বা প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। এই আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে যে পর্নোগ্রাফির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পুলিশের উপপরিদর্শক বা তার সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আরো ১৫ দিন এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেলে আরো ৩০ দিন পর্যন্ত তদন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।

এ আইনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে আদালত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিতে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্য সমাধা হবে। কেউ এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে আপিল করতে পারবেন। এ ছাড়া বিলে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের কারীর জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগ ছাড়াই রাষ্ট্র তথা আদালত আমলে নিতে পারবে। পর্নোগ্রাফির কড়াল গ্রাস থেকে মুক্তির প্রধান উপায় হলো পর্নোগ্রাফিকে চিরতরে বিদায় জানানোর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে চলা, অবসর সময়ে বই পড়া, নিজেকে বিভিন্ন ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত রাখা, পরিবারের সদস্য ও কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানে ভ্রমণ সর্বোপরি নিজের ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করা।

লেখক : সহকারী কর্মকর্তা, ক্যারিয়ার অ্যান্ড প্রফেশনাল

ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগ, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close