reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৫ অক্টোবর, ২০২১

মোবাইল অপারেটরদের ছলচাতুরী কত দিন!

নিচের দিকে গড়ানোই পানির ধর্ম। সম্ভবত সে কারণেই পৃথিবীর সব অনাচার, অত্যাচার, নির্যাতন, নির্বাসন পতিত হয় দুর্বলের ওপর। পৃথিবীর ইতিহাসও সে কথাই বলে। সমাজে মোটাদাগে দুই শ্রেণির মানুষের বসবাস। এক ভাগে গরিব, যারা সংখ্যাগত দিক বিবেচনায় পৃথিবীর মোট জনসমষ্টির সিংহভাগ। বিপরীতে ধনিকশ্রেণি, এরা সম্পদের মালিকানা বিবেচনায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন। গণতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র যাই বলি না কেন, সর্বত্রই বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হচ্ছে জনগণ। অর্থাৎ এই গরিব মানুষরাই রাষ্ট্রের মালিক। যাদের শরীরে গরিবের তকমা লাগানো আছে। তথ্য মতে, এরা রাজা হলেও বাস্তবতায় তার বিপরীত। এদেরও একটা তাত্ত্বিক নাম আছে, আমরা যাকে শ্রমদাস হিসেবে চিহ্নিত করেছি।

শ্রমদাস হতে বর্তমান সমাজব্যবস্থায় কারো কোনো আপত্তি নেই, থাকার কথাও নয়। তবে আপত্তির কথা তখনই আসে, যখন এই শ্রমদাসরা নানাবিধ অনাচার, অত্যাচারের মুখোমুখি হয়। প্রতি পদে পদে তাদের রক্ত বেচা টাকাও লুট হয়ে চলে যায়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এসব লুটেরা আর অন্য কেউই নন। আমাদেরই প্রতিবেশী। এরা ধনিকশ্রেণির গোত্রভুক্ত। এ রকম এক প্রতিবেশীর নাম আমরা জানতে পেলাম মিডিয়ার বদান্যতায়। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ব্যবসার নামে বাটপারি করছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। অসংখ্য ছলচাতুরীর একটি হচ্ছে কলড্রপ। এই কলড্রপের ফাঁদে ফেলে সেসব গরিব মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে শত শত কোটি টাকা।

তথ্য মতে, প্রতি কলড্রপের বিপরীতে ১ মিনিট কল ফেরত দিতে হয়। কিন্তু অপারেটরগুলো তা না দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে করছে প্রতারণা। এ নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গেও খেলছে সাপলুডু। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের অভিযোগ ও বিটিআরসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে দিব্যি কলড্রপ ঘটিয়ে অব্যাহত রেখেছে অনৈতিক বাণিজ্য। সম্প্রতি গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিটিআরসি অনুসন্ধান চালিয়ে এই অপারেটরগুলোর অনিয়ম খুঁজে পায়। এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মোবাইল কোম্পানিগুলোর এত দিন ধরে চলে আসা এই অপকর্মের খোঁজ এত পরে এসে কেন সন্ধান করা হলো! পেছনের রহস্য কী? এর জবাব ক্ষতিগ্রস্তরা চাইতেই পারে। তবে বাজারে গুজব আছে, অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের একটা মধুর সম্পর্কই রহস্য বেরিয়ে আসতে এত সময়ক্ষেপণ হয়েছে। কার্যকর ভূমিকায় কবে দেখা যাবে, তাও প্রশ্নবিদ্ধ। একজন গ্রাহক এক মিনিট কথা বলার জন্য ৬০ পয়সার বেশি বিনিয়োগ করলেও কলড্রপসহ নেটওয়ার্ক ঝামেলায় মিনিটপ্রতি খরচ হয়েছে এক টাকা। তথ্য মতে, রবি, গ্রামীণ ও বাংলালিংকে দেখা গেছে, কলড্রপ ঘটিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে বছরে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি মিনিট, যা টাকার মূল্যে ৩০ কোটি টাকারও বেশি। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। অসংগতি পাওয়া গেছে। তাদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা বলছেন, নিয়ম না মানাকেই নিয়মে পরিণত করা হয়েছে। অপারেটররা তাই করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- কার সহায়তায়! দেশে কি আইনের কোনো কার্যকারিতা নেই? এ প্রশ্নের জবাব যথাযথ কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।

অভিযোগ একটিই নয়। তাদের মতে, অফ নেটের সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। তারা আরো বলছেন, কলড্রপের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাচ্ছেন না। আমরা মনে করি, এর একটা ইতিবাচক সমাধান আসা উচিত। নতুবা বিষয়টি অন্যত্রও সংক্রমিত হতে পারে। যদিও সংক্রমণ এখনো কমবেশি সর্বত্রই চলছে। রোধ করা না গেলে, পানির চিরায়ত চরিত্রেই অনুরণিত হবে দেশের সব প্রতিষ্ঠান। ভুগতে হবে সাধারণ মানুষকে, যা কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close