reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১২ অক্টোবর, ২০২১

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অব্যাহত থাকবে

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আর মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন সেই গৌরবের গর্বিত অংশীদার। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, মর্যাদা দিয়েছেন, জাতির ললাটে পরিয়ে দিয়েছেন বীরত্বের তকমা। গুটিকতক আলবদর-রাজাকার-শান্তি কমিটির সদস্য ছাড়া সমগ্র জনগোষ্ঠীই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্ম ছিল। তবে যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধ সংঘটিত করেছেন, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন; তারা সূচনায়ই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জনগণের কাছে সম্মানিত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। স্বাধীনতা-উত্তর রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও পুনর্বাসনের কতিপয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আর মুক্তিযুদ্ধে যেসব নারীর অনন্য ত্যাগ রয়েছে, যারা পাকিস্তানি হানাদার-রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত-লাঞ্ছিত হয়েছেন, তাদের বীরাঙ্গনা সম্মানে ভূষিত করা হয়।

স্বীকার করতে হবে, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা বিগত অনেক সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বরং সেসব সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যতটা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, সে তুলনায় তাদের ভাগ্যবদলের কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এমনো সময় গেছে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হওয়া সত্ত্বেও পরিহাস ও বিড়ম্বনা ছাড়া তাদের ভাগ্যে তেমন কিছু জুটেনি। কিন্তু আজ মুক্তিযোদ্ধারা আত্মসম্মান নিয়ে সমাজে বসবাস করছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার দুই দশক পর তার কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন। পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ১২ হাজার থেকে এখন ২০ হাজার টাকায় উন্নীতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি সত্যিকার অর্থে প্রশংসনীয়। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কারণে নয়, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। কাজেই সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। সুখবর হচ্ছে, স্বাধীনতাযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নম্বরসংবলিত রুপার পদক দেওয়ার সুপারিশ জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। গত রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ সুপারিশ জানানো হয়। বলা হয়, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবদান স্মরণ করে প্রত্যেক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ নিজ মুক্তিযোদ্ধা নম্বরসংবলিত একটি করে রুপার তৈরি পদক প্রদানের সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে অবহিত করা হয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি শুভ উদ্যোগ। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

বলা সংগত, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান মূল্যায়ন করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনেপ্রাণে লালন করা প্রত্যেকটি বাঙালির জন্য অপরিহার্য। বীরদের সম্মানের ক্ষেত্রে যে শুধু ভাতা দেওয়া, আবাসন দেওয়া- এমনটা নয়। এমনকি এটি শুধু যে সরকারের কাজ- এমনটাও নয়। আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব এবং কর্তব্য মনে করে তা করতে হবে। তা না হলে একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে দাবি করা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের বিষয় জানাতে এর বিকল্প নেই। পাশাপাশি আমাদের নতুন প্রজন্মসহ যুগ যুগ ধরে যে প্রজন্ম আসবে, তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অব্যাহত থাকবে- এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close