reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন বাড়ছে আত্মবিশ্বাস

করোনার অতিমারিতে বিধ্বস্ত অর্থনীতি। শুধু আমরাই বিধ্বস্ত নই, বিশ্ব অর্থনীতির চিত্রও একই। বিশ্ব অর্থনীতি পড়ে গেলে তার প্রভাব বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের ওপরে বর্তাবে- বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। তবে আমাদের দেশে যে পরিমাণ বিপর্যয়ের কথা ভাবা হয়েছিল, তা হয়নি। আল্লাহর রহমত, মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত করোনা প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তার পরও বলতে হয়, যতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য কম নয়। ধীরে ধীরে খাতওয়ারি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন।

প্রায় দেড় বছর অর্থনীতির চাকা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার পর আবার যেন অনেকটা ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিক গতি। করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটনশিল্প। দীর্ঘদিন পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় প্রাণ ফিরে এসেছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। কঠোর বিধিনিষেধে বন্ধ থাকায় আর্থিক অনটনে পড়লেও এখন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন এ খাতের পেশাজীবীরা। ছুটির দিনে এলাকার চিত্র একেবারে বদলে গেছে। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলে ঠাঁই নেই বললেই চলে। একইভাবে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে।

তথ্য মতে, করোনার আগে প্রতি বছর গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ পর্যটক দেশের বিভিন্ন স্পটে ভ্রমণ করেছেন। সেই স্রোত এখন আর নেই। করোনা থমকে দিয়ে ফিরে গেছে তার গন্তব্যে। এখন নিয়ন্ত্রণে। তাই আবার জমতে শুরু করেছে নতুন উদ্যমে। এলাকায় চলছে মূল্যছাড়ের প্রতিযোগিতা। তথ্য-উপাত্ত বলছে, করোনার কারণে গত বছর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জনসমাগম বন্ধ ছিল ছয় মাস। এবার তা প্রায় চার মাস। ফলে জীবিকা নিয়ে সরাসরি বিপাকে পড়েন পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে পটপরিবর্তনের কারণে এলাকায় ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। আগের চেয়ে বিক্রি-বাট্টার গতি অনেকটা ইতিবাচক। অনেক দিন পর ব্যবসা-বাণিজ্যের ঠোঁটে হাসি ফিরে এসেছে। সবাই স্বপ্ন দেখছেন সচ্ছলতার। তবে সাবধানের মার নেই। এ কথা মাথায় রেখে দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে। করোনা সংক্রমণ কমেছে। এর মানে এই নয় যে, আমরা করোনামুক্ত হয়েছি। তাই সাবধানতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। অন্তত আরো ছয় মাস অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করোনার ওপর কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে। আর এই নজরদারি রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। দেশের সুনাগরিক হিসেবে প্রত্যেককেই এ দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে টিকা কর্মসূচি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি সবাইকে হতে হবে আন্তরিক। জ্বর রিভাইব করলে তা যেমন মারাত্মক হতে পারে, করোনার ক্ষেত্রেও তার সম্ভাবনাও প্রবল। এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া আজ সময়ের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। আমরা মনে করি, দেশবাসী সেই বিবেচনার কথা মাথায় রেখেই করোনাকে মোকাবিলা করবে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবস্থা এখন সম্পূর্ণ ইতিবাচক। সবকিছুতেই ইতিবাচকের ইঙ্গিত রয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হচ্ছে। হোটেল-মোটেলের কোনো কক্ষই আর খালি থাকছে না। বাস্তবতা বিশ্লেষণে বলা যায়, পর্যটনশিল্পে যদি করোনার আর কোনো ধাক্কা না লাগে তাহলে বাংলাদেশের আর কোনো খাতে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ক্ষেত্রে পর্যটনই হতে পারে আমাদের ব্যারোমিটার। আর এই ব্যারোমিটারকে ধরে রাখতে সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি সমন্বয় অতি জরুরি। সরকার নিশ্চয়ই বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করবেন আর জনগণ আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারের পাশে দাঁড়াবে- এটুকুই প্রত্যাশা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close