reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৩০ জুলাই, ২০২১

সুন্দরবননির্ভর মানুষের পাশে দাঁড়ান

মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে পড়ে, অভাব তখন সদর দরোজা দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এমনিতেই অভাবের সংসার। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকলে এদের উনুন জ্বলে না। তারপর এসেছে লকডাউন। আয়-উপার্জন নেই। করোনা শুধু আজ একটি মরণব্যাধি নয়। মানবসভ্যতা ধ্বংসের এক বিধ্বংসী ভাইরাস। যার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া এখনো সম্ভব হয়নি। সবকিছুই এখনো গবেষণাগারে। এরই মধ্যে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে বিশ্বের প্রায় ৪৩ লাখ মানুষ। সামনে আরো দিন পড়ে আছে। কেউ জানে না এই মৃত্যু কাফেলা কোথায় গিয়ে শেষ হবে। শুধুই কি প্রাণ নিঃশেষিত হয়েছে? না, এখানেই শেষ নয়। বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা নাজুক করে দিয়েছে। কোটি কোটি মানুষকে করেছে চাকরিচ্যুত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব এখন একটি বড়মাপের দুর্ভিক্ষের অপেক্ষায় আছে। এখানে কত লোকের প্রাণহানি ঘটবে তাও পরিষ্কার নয়।

ঠিক এ রকম এক বাস্তবতায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে সম্প্রদায় বিপাকে পড়েছে। দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ। চলছে লকডাইন। একই সমস্যায় পড়েছেন মধু ও কাঁকড়া আহরণকারীরা। সবমিলে লাখো পরিবার আর্থিক অনটনে মানবিক জীবনযাপন করছে। এরই মধ্যে তারা খাদ্য সহায়তার দাবি তুলেছেন। তথ্য মতে, ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সাগরে গত ২০ মে থেকে মাছ বন্ধের ঘোষণা দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। একই সময় সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নদী ও খাল থেকে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বন বিভাগের। ফলে ওই সময় থেকে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হলেও অভ্যন্তরে মাছের প্রজনন মৌসুম, তাই ১ জুলাই থেকে আবারও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে বন বিভাগ। অর্থাৎ মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। এত লম্বা সময় আয়ের পথ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে এলাকার ১০ লাখ মানুষ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রী দুহাত খুলে সাহায্যের অনুমোদন দিলেও অত্র এলাকায় কোনো সাহায্য আসেনি। অভিমতটি এলাকাবাসীর।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে, যদি সেখানে কোনো খাদ্য সহযোগিতা না পৌঁছায়। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। বিশেষ করে করোনাকালীন এ সহযোগিতা তাদের বিশেষভাবে উপকৃত করতে পারে। জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে কোরামিনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। করোনা কেবল আমাদের বিপর্যস্ত করেনি। গোটা বিশ্বই আজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। প্রতিরোধ করা না গেলে বিপর্যয়ের মাত্রা আমদের অনুমানকেও অতিক্রম করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পৃথিবী থেকে এই ভাইরাস দ্রুত সরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আর সে কারণেই যার যার অবস্থান থেকে সাহায্য ও সহযোগিতাসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসাটাই জরুরি। সময়ের দুস্থরা সমাজের পরগাছা নয়, বরং আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই চালিকাশক্তি যদি একবার ভেঙে পড়ে, তাহলে অর্থনীতিও ভেঙে পড়বে। অর্থনীতি ভেঙে পড়লে আমাদের অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। আমরা মনে করি, এই দুর্যোগকালীন সম্মিলিত উদ্যোগই একমাত্র মুক্তির পথ।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close