ব্রেকিং নিউজ

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও দেশের অনেক মানুষ মাস্ক পরতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাই এবার সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসেও মাস্ক ছাড়া কেউ সেবার জন্য গেলে তাকে সেবা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় সরকারের এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। অন্তত যত দিন এ রোগের কার্যকর প্রতিষেধক বাজারে না আসছে, তত দিন সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করতে হবে। অবশ্য গত জুলাইয়ের শেষদিকে বাসার বাইরে সব জায়গায় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে সবাইকে পুনরায় মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সরকার বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে শিথিলতা দেখা যায়। এখন আসন্ন শীত মৌসুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। শীত সামনে রেখে এরই মধ্যে সব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেমনÑ হাটবাজার, শপিং মল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মিলনে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এমনকি সরকারি-বেসরকারি অফিসে ‘মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না’Ñ এ রকম পোস্টার টানাতে বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাস্ক পরা যে সরকারি নির্দেশ, তা নামাজের পর মুসল্লিদের দিনে অন্তত দুবার জানিয়ে দিতে মসজিদের ইমামদের বলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার যে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, নিজেদের প্রয়োজনে তা সবারই মেনে চলা উচিত। কারণ মাস্ক হলো করোনা সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এটি শুধু এর ব্যবহারকারীকেই নয়, আশপাশে থাকা অন্যদেরও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। বস্তুত করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সারা বিশ্বে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে মানুষের মধ্যে প্রথমদিকে এ ব্যাপারে সচেতনতা দেখা গেলেও এখন সর্বত্র দেখা যাচ্ছে শৈথিল্য। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহার প্রায় উঠেই গেছে। শহরেও মাস্ক পরার প্রচলন ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। অথচ পরিস্থিতি এমন নয় যে, দেশে করোনার ভয়াবহতা কমে গেছে; বরং আসন্ন শীতে নতুন করে সংক্রমণের বিস্তার ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরাই পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন।

দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কারণ, শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাসটি বাতাসে বেশি সময় ভেসে থাকে। দ্বিতীয়ত, শীতকালে এ দেশের মানুষের একত্রে জড়সড় হয়ে বসার প্রবণতা রয়েছে। ফলে এ সময় অনেকের পক্ষে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে যায়। তাছাড়া শীতে অনেকেই ঠান্ডাজাতীয় রোগে আক্রান্ত হন। এতে তাদের ফুসফুস দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব কারণে শীতকালে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। এ পরিপ্রেক্ষিতে সবারই উচিত সতর্ক থাকা তথা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

 

 

"