সৌদি প্রবাসীদের শঙ্কা মুক্তিতে সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়

প্রকাশ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাকালে যেসব সৌদি প্রবাসী দেশে ফিরেছিলেন তাদের ফিরে যাওয়া অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। নানা টানাপড়েনের মাঝে অস্থির সময় পার করতে হয়েছে তাদের। তীব্র দাবদাহের পর অবশেষে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। বিড়ম্বনার পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দেশটিতে প্রবেশের বাধা কেটেছে। তবে যে পরিস্থিতির জন্ম হয়েছিল, তার জন্য কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি। সরকার তার শেষ চেষ্টা করেছে এবং সফলতার ঝান্ডা ওড়াতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়াই যায়। ন্যায্যত এটি তার প্রাপ্য। সফলতা না এলে বাংলাদেশের অসংখ্য বেকারের সঙ্গে যুক্ত হতো লক্ষাধিক নতুন বেকার। পাশাপাশি রেমিট্যান্স হারানোর বিষয়টি তো আছেই।

করোনার সময় উভয় দেশের মাঝে বিমান চলাচল ছিল বন্ধ। এখন তা উন্মুক্ত করা হয়েছে। সৌদি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দিয়েছে দুই দেশ। এ ছাড়া যাদের আকামার (কর্মভিসা) মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের মেয়াদ বাড়ানোরও ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার। এজন্য আগামীকাল রোববার থেকে খুলছে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের ভিসা অফিস। এদিকে পূর্বনির্ধারিত ১ অক্টোবরের পরিবর্তে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিমান বাংলাদেশের বিশেষ ফ্লাইট চলাচল শুরু করবে। একই সঙ্গে সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটও চলবে। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্তও থাকছে। শর্তে বলা হয়েছে, সৌদিতে প্রবেশের আগে যাত্রার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ হস্তান্তর করতে হবে।

এদিকে টিকিট সংকট সামাল দিতে না পেরে সউদিয়া এয়ারলাইনস গত বুধবার ঢাকায় তাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও আকামা বৃদ্ধির ঘোষণা আসার পর চিত্রপটের পরিবর্তন ঘটে। পুনরায় তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রবাসীদের সৌদি ফেরার বাস্তবতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘প্রবাসীদের সৌদি যাওয়ার দরোজা খুলে দিয়েছে দেশটির সরকার। এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়। আমরা গুরুত্ব দিয়েই বিষয়টি আমলে নিয়েছি। দুদিন ধরে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অবশেষে লক্ষাধিক প্রবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছি।’

আমরা মনে করি, এ সফলতার মধ্য দিয়ে প্রবাসীদের সৌদি আরবে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। দুই দেশের সরকারের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনাই সুফল বয়ে এনেছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে সৌদি আরব সব সময়ই আন্তরিক। আবারও তারা তার প্রমাণ রাখল। আমাদের চারপাশে খারাপ খবরের অন্ত নেই। তার মাঝে এ রকম সংবাদ আমাদের অনভূতিতে কতটা নাড়া দেয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সংকট চলাকালে মনে হয়েছিল, কী গভীর খাদের দিকেই না চলেছি আমরা। কিন্তু না, আমরা আমাদের চেষ্টায় সে বাধাকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছি লক্ষাধিক পরিবারের মুখে। এ রকম সফলতা যদি অন্যান্য ক্ষেত্রেও আনা যায়, তাহলে নান্দনিক বাংলাদেশ গড়তে আর বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। দুর্নীতি আমাদের অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যে সদিচ্ছার প্রয়োজন, সেখানে ঘাটতি প্রচুর। এ ঘাটতি পূরণ করতে হবে। পূরণ হলেই আমরা আমাদের ঐতিহ্য ফিরে পাব। ফিরে পাব আমাদের মর্যাদা।

 

 

"