reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৩ জুন, ২০২৪

ত্যাগের মহিমায় তারুণ্যের ঈদ

ত্যাগের মহিমা নিয়ে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানোর মধ্য দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের আশায় নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেন ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবান মুসলমানরা। আল্লাহর কাছে নিজের জানমাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্ট চিত্তে বিলিয়ে দেওয়ার এক সুমহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন। মূলত মনের পশুকে জবাই করে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়াই ঈদুল আজহার মূল উদ্দেশ্য। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও ত্যাগের মহিমা অনুধাবন করতে পারে। ঈদ নিয়ে তারুণ্যের উৎসাহ-উদ্দীপনা একটু বেশি। তরুণ শিক্ষার্থীদের আনন্দে কাটানো ঈদ উদযাপন তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে ঘিরে সবার মাঝেই থাকে অন্যরকম এক আমেজ। আর এই আমেজ শুরু হয় ঈদের পূর্ববর্তী দিন থেকেই। হাতে মেহেদি পরা, এ ছাড়া ঈদের দিনের সব কাজের প্রস্তুতি শুরু হয় এর আগের দিন থেকেই। ঈদুল আজহা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের এক ধর্মীয় ও প্রাণের উৎসব। ঈদের দিন সকাল থেকেই মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নিতে শুরু করে। তারপর শুরু হয় আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানির কাজ। আর এই কোরবানির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানবিকতা। আর এটি এক অন্যরকম অনুভূতি। পশু কোরবানির মাধ্যমে মুসলিম জাতি ত্যাগ স্বীকার করে এবং আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায় তাকওয়া। ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউই আনন্দচ্যুত নয়। এটাই এই পবিত্র ঈদের মূল সৌন্দর্য। সবকিছু ছাপিয়ে ঈদের আমেজ পুরোপুরি শেষ না হতে না হতেই আমাদের ফিরতে হয় ব্যস্ত নগরীতে স্বপ্নপূরণের উদ্দেশ্যে। সব মিলিয়ে এই ঈদ বরণ করে নিয়েছে সবাই এবং তৈরি হয়েছিল এক আনন্দমুখর পরিবেশ।

জান্নাতুল মীম

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ঈদুল আজহা

দৈনন্দিন জীবনের সংকীর্ণ গন্ডি থেকে মিলনের বৃহত্তর ক্ষেত্রে মানুষকে উত্তীর্ণ করে যেকোনো উৎসব অনুষ্ঠান। মুসলমান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এই ঈদও তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো খুশি বা আনন্দ। আমরা সবাই এই দিনে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার প্রতি পরম শ্রদ্ধাভক্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে হৃদয়ের সব দরজা খুলে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের প্রকাশ করে থাকি। ঈদের সময় আমাদের বাড়িতে অনেক আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সমাগম ঘটে। বাড়ির ছেলেরা সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন পাঞ্জাবি পরে এবং সুগন্ধি মেখে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যায়। মেয়েরা নতুন কাপড় পরে বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করে। আমরা বাসার সবাই বলতে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে কোরবানির পশুকে একটু আদর করি। নামাজ শেষ হওয়ার পর বাবা-মামারা পশু জবাই করেন, আমরা সবাই পশু জবাই দেখি। এরপর সারাটা দিন চলে যায় মাংস কাটাকাটি, বণ্টন এবং বিতরণে। বছরের দুটি ঈদে সবাই একসঙ্গে একজোট হয়ে আনন্দে মেতে উঠি। যারা বছরে ঠিকমতো মাংস খেতে পারে না তাদের মাংস দিতে পারার মধ্যেই আনন্দ। ঈদটা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেছি।

শারমিন আক্তার আয়শা

শিক্ষার্থী, পরিসংখ্যান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

অসীম আনন্দের সমাহার ঈদ

ঈদ বলতেই আনন্দ। ঈদুল আজহা আমাদের শান্তি, সহমর্মিতা এবং ত্যাগের শিক্ষা দেয়। ছোটবেলায় ঈদ বলতে আমরা বুঝতাম নতুন জামা, এলাকার ছোট-বড় সবাই একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, বড়দের সালাম করে সালামি নেওয়া, বাসায় ভালো-মন্দ খাবার খাওয়া, একে অন্যের বাসায় ঈদের দাওয়াত। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের সময়গুলো দারুণভাবে কেটে যাওয়ার এক আবেগঘন মুহূর্ত। ঈদের আগের রাতে হাতে মেহেদি দেওয়া এবং সবার সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় ঈদ উদযাপন। তবে সময়ের সঙ্গে অনুভূতি বদলায়, মানুষ বদলায়, ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন ঈদ বলতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে হওয়া, সবাই মিলে সুন্দর কিছু মুহূর্ত ভাগাভাগি করা। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া আর আত্মীয়স্বজন সবার সঙ্গে আনন্দঘন মূহূর্ত তৈরি করা। তবে ছোটবেলার ঈদগুলোই বেশি সুন্দর ছিল। ঈদ কার্ড, নতুন জামা, সকালে আম্মুর হাতে সেমাই হালুয়া দিয়ে ঈদের দিনগুলো শুরু হতো। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে আমরা সামাজিকতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে যেন ঈদ মানেই ফেসবুকে ছবি আপলোড দেওয়া আর ঈদ মোবারক উইশ করা। আমাদের ঈদ যেন ফেসবুকে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। সারা বছর বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করার পর বছরের এই দিনে এসে সবাই একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই মুহূর্তগুলো সত্যিই অনেক সুন্দর।

সাবিনা আফরোজ প্রিয়া

শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

পরিবারের সঙ্গে কাটানো শ্রেষ্ঠ সময় ঈদ

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে মা-বাবা-ভাই-বোনকে নিয়ে কাটানো সুন্দর সব মূহূর্ত। ঈদের দিনটি শুরু হলো সকালে বাবা-ভাইয়ের ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে। এরপর কোরবানি দেওয়ার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা। তারপর আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, দুঃখী-দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ। এরপর মা শুরু করেন মাংস রান্না। আমি, আমার ভাই বসে যাই সেই কাঙ্ক্ষিত কাজে অর্থাৎ ভুঁড়ি পরিষ্কার করতে। মাংস রান্না শেষ মা পরম যত্নে আমাকে আর ভাইয়াকে খাইয়ে দেন। এর এক অন্য আনন্দ যা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঈদের দিন পৃথিবীর সব ব্যস্ততা ভুলে কাটাই একটা সুন্দর দিন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা একে অন্যের বাড়িতে ঈদে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। ঈদের আনুষ্ঠানিকতা এক দিনে শেষ হয়ে গেলেও এর আমেজ থেকে যায় বেশ কিছুদিন। এই উৎসব এবং ত্যাগের মহিমায় দৃঢ় হোক সব বন্ধন, দূর হয়ে যাক মনের গ্লানি। পরিশেষে ঈদ উপলক্ষে মানুষের হৃদয়ে গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি এবং তাদের সাহায্য করার যে মানসিকতা তৈরি হয়, সেটির প্রভাব থাকুক বছরব্যাপী।

নুসরাত জাহান রিজু

শিক্ষার্থী, সংগীত বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ঈদের আনন্দ আমাদের নিত্যদিনের কাম্য

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের দিন পুরোটাই জাঁকজমকপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায়, এরপর কোরবানির পশুকে গোসল করানো, তারপর সবাই একসঙ্গে গোসল করতে যাওয়া সবকিছুই অত্যন্ত স্পেশাল ছিল। গোসল করে এসে নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিবারের সবাই একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার মধ্যে এক স্বর্গীয় সুখ পরিলক্ষিত হয়। নামাজ পড়ে এসে পশু কোরবানি, মাংস কাটা, বণ্টন- এ কাজগুলো অন্যান্য দিন থেকে ঈদের দিনকে অনন্য ও উপভোগ্যময় করে তোলে। তবে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি খাওয়া এবং ঈদ সালামি নেওয়ার বিষয়টি সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। ঈদের দিনে পড়ন্ত বিকেলে যখন পাখিগুলো বাসায় ফেরে, তখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে পরিবারের সবাই একসঙ্গে তোলা ক্যামেরাবন্দি ছবির মর্মই আলাদা। এভাবে ঈদের আনন্দ প্রত্যেকের মনে বিচরণ করে অনাবিল খুশি আর আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি করে।

মো. স্বাধীন আহমেদ

শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আনন্দে কেটেছে এবারের ঈদ

মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ আনন্দ আয়োজন হলো ঈদ উৎসব। ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও জাতি, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ এ উৎসবে শামিল হয়েছে।

সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যে যার সাধ্যমতো খুশিতে মেতে উঠেছে। ঈদের এ সময় পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে অন্যরকম অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। নতুন পাঞ্জাবি পরেছি, সেলফি তুলেছি বন্ধুদের সঙ্গে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছি। কোরবানি দেওয়ার পর মাংস বণ্টনে অংশগ্রহণ এবং গরিবের মধ্যে বিতরণ করেছি। বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীরা একে অপরের বাড়িতে এসেছিল। অনেক হই-হুল্লোড়, আড্ডা, আনন্দে পালিত হয়েছে ঈদ। অনেক দিন পর পরিবারকে সময় দিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দিয়েছে এই দিনটি। আবার কেউ তার পরিবারকে সময় দিয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই ঈদের রান্না হয়েছে ব্যাপক আয়োজনে। হরেক রকমের মুখরোচক বিভিন্ন খাবার। এ দিনটি আমাদের সমাজে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বয়ে এনেছে। সব মিলিয়ে অন্যরকম এই অনুভূতির জন্ম দিয়েছে ঈদ।

মো. তুহিন মিয়া

শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close