reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২০ জুন, ২০২৪

ঢাবি ছাত্রের যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ একরের কৃষি খামার

মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার স্বপ্ন। মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। স্বপ্নের ওপর ভর করে মানুষ বেঁচে আছে যুগ-যুগান্তর, পাড়ি দিচ্ছে বন্ধুর পথ। ছোটবেলায় আমরা কত কিছুই না হতে চেয়েছি? কেউবা ডাক্তার, প্রকৌশলী কিংবা বৈমানিক। কেউ কি কখনো কৃষি খামারের কথা চিন্তা করেছি? আর সেটা যদি হয় দেশের বাইরে। এমনই একজন ব্যতিক্রমী স্বপ্নবাজ তরুণ মাহফুজুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কাজের সন্ধানে গিয়ে চার বন্ধুর সহায়তায় সেখানে গড়ে তুলেছেন শত একরের কৃষি খামার। তার এই স্বপ্নের গল্প লিপিবদ্ধ করেছেন মো রিয়াজ হোসাইন

যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কৃষি খামারের শুরুটা কীভাবে করলেন?

আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খামার ব্যবস্থাপনার প্রতি আগ্রহ ছিল সব সময়। আর এসব একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই সম্ভব। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি খামার ব্যবস্থাপনা বহুমুখী কর্মসংস্থানসহ বিশ্ববাণিজ্যের সুন্দরতম বাজার বিদ্যমান। শুরুর দিকে আমরা ব্যাংকে দুই লাখ ডলার জমা দিয়ে অল্প পরিসরে ১১ একরের জমি ক্রয় করে খামারের কাজ শুরু করি। তারপর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে খামার বড় করি।

আপনি কেন কৃষি খামারে আগ্রহী ছিলেন?

প্রথমত আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা। উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা করা, কর্মসংস্থান তৈরি এবং পুরো মুসলিম কমিউনিটির জন্য হালাল পণ্য উৎপাদনসহ আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণ। যাতে বাংলাদেশে কমিউনিটির লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আধুনিক গবেষণা, উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণসহ কৃষিশিল্পের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি ট্যুরিজম ব্যবসা উন্নয়ন করা।

বাংলাদেশিদের জন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা আছে?

অবশ্যই, আমরা একটা আলোচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশি তরুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সু-ব্যবস্থা করব। তারা এখানে কাজ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে নিজেদের পড়াশোনা চালাতে পারবেন। তা ছাড়া দেশি মানুষের প্রতি আমার আলাদা নাড়ির টান রয়েছে।

আপনার কৃষি খামারের সহযোগী কারা?

আমি দীর্ঘ সময় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছি। কর্মজীবনে যত টাকা রোজগার করেছি সব টাকা এই কৃষি খামারে ব্যয় করেছি। তা ছাড়া এই কৃষি খামার তৈরিতে আমার আরো তিন বন্ধু নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে মালিকাধীন অবস্থায় আছে। তাদের নাম যথাক্রমে মো. শাহাদাত হোসেন শাহীন, শেখ তৌফিকুল আলা সিরাজী এবং মো. রুহুল আমিন চৌধুরী। আমাদের কৃষি খামারের নাম ক্যালিফোর্নিয়া ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ফ্রেন্ডশিপ খামার।

আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা?

আমার এসএসসি পড়াশোনা শেরপুর ভিক্টোরিয়া স্কুলে এবং এইচএসসি শ্রীবরদী সরকারি কলেজে। পরবর্তী উচ্চশিক্ষার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি এবং জাপানি ভাষায় পড়াশোনা শেষ করি। তার পরের বছর জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি এবং সফলতার সঙ্গে শেষ করি। তারপর আমি চায়নায় নানজিংয়ের একটি স্বনামধন্য কোম্পানির আমন্ত্রণে গবেষণা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি এবং সফলতার সঙ্গে শেষ করি। এরপর ক্যালিফোর্নিয়া প্যাসিফিক স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ ফিন্যান্সে এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলসে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে মাস্টার্স শেষ করি। বর্তমানে আমি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় নর্থরিডজে ইনফরমেশন সিস্টেম অব অ্যাকাউন্টিংয়ের ওপর পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যতে আমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গভার্মেন্ট অ্যান্ড পলিটিকসে পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে।

আপনার কর্মময় জীবন কেমন ছিল?

আমার কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময় ছিল। প্রথমে আমি ঢাকার উনল হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করি। পরে শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড মহিলা কলেজে শিক্ষকতা, তারপর তুলা উন্নয়ন বোর্ডে যোগদান করি। বর্তমান আমি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মময় জীবনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করি। তারপর এগ্রিকালচার কমিশনার ওয়েট অ্যান্ড মেজার, লস অ্যাঞ্জেলসে ইন্সপেক্টর এইড হিসেবে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় ক্যালিফোর্নিয়া ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। এ ছাড়া বর্তমানে আমেরিকান রেড ক্রসের একজন সক্রিয় সদস্য।

আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?

বাংলাদেশসহ বিশ্বে কৃষির বিভিন্ন আধুনিক গবেষণা ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সু-ব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মেধাবীদের কর্মের সু-ব্যবস্থা করা আমাদের কৃষি খামারের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নতমানের কৃষিপণ্য বাজার ব্যবস্থাপনা এবং বাংলার ঐতিহ্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফুটিয়ে তোলা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close