reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২১

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশা

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে সাংবাদিকতার আঁতুড়ঘর বলা হয়। সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে প্রথমে এর অর্থ জানা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতায় অবশ্যই সততা, নৈতিকতা ও মানবতাবাদী আদর্শের প্রতিফলন থাকতে হবে। তবে শহুরে এবং মফস্বলের পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় সম্ভাবনার পাশাপাশি দারুণ সংকটও রয়েছে। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনিক নানা জটিলতায় এসব সংকট ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সামনে কখনো কখনো ঘোর অন্ধকার তৈরি করে আবার কখনো নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে। এসব সংকট মাড়িয়ে যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের হয় বিচিত্র অভিজ্ঞতা। তৈরি হয় আলাদা পরিচিতি। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশা নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের মতামত তুলে ধরেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান রিজভী

প্রতিনিধিদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করা উচিত

সাংবাদিকতা শেখার অনন্য জায়গা ক্যাম্পাস। এখানে আমরা সব ধরনের সংবাদ করার সুযোগ পাই। যে কারণে সংবাদের সব দিকগুলো হাতে-কলমে শিখতে পারি। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের ভালোর জন্য কিছু করার সুযোগ থাকে বলে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার গুরুত্ব আমার কাছে অপরিসীম। কিন্তু এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেগুলোর উত্তরণ ঘটাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আরো বেশি আগ্রহী হবে। এই যেমন প্রত্যেকটি মিডিয়া হাউজের উচিত প্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত সম্মানির ব্যবস্থা করা।

মো. মাহবুব আলম

সভাপতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

প্যাশন না থাকলে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় টিকা কঠিন

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা থেকেই সাংবাদিকতার হাতেখড়ি শুরু হয়। আমাদের সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয়, সেটি হচ্ছে আগে শিক্ষার্থী নাকি সাংবাদিক? ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করেন অথচ এ প্রশ্নের মুখোমুখি হননি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আর্থিক সম্মানি নেই বললেই চলে। তবুও কিছু তরুণ প্যাশনের জায়গা থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সোচ্চার রয়েছেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে। আমি বলব, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা হচ্ছে সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোর একটি কম্বাইন্ড প্যাকেজ। এখানে যেমন অভিনয় করতে হয়, তেমনি অনিয়মকারীদের যৌক্তিক তর্কের মাধ্যমে প্রশ্নবানে জর্জরিত করতে হয়। প্যাশন না থাকলে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় টিকে থাকা কঠিন। নানা প্রতিবন্ধকতা জেনেই এ পথে পা বাড়াতে হয়।

শাহাদাত বিপ্লব

সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় রয়েছে তৃপ্তি

একেবারেই কাঁচা হাতে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা শুরুর প্রথম বছরটা চলে যায় সংবাদ লেখা শিখতেই। তবে সেই হাতের শব্দ বুননে হয়ে ওঠা সংবাদে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা কিছুটা হলেও সমাধানের পর্যায়ে যায় তখন খুবই আনন্দ হয়। আনন্দ অনুভব হয় তখনো যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নতুন উদ্ভাবন আর অর্জনের গল্প নিজ হাতে লিখি। নিজ পরিসরের বাইরে নানা বিভাগের নানা গুণী মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ জানাশোনার দিগন্তকে প্রসারিত করেছে। এই কানেক্টিভিটি আমার মতো একটি ইন্ট্রোভাট মানুষকে এক্সট্রোভাট হতে শিখিয়েছে। অপেক্ষাকৃত ছোট পাওয়া মনে হলেও প্রতিনিয়ত এভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারার তৃপ্তিটুকু ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতার চর্চার কারণে, যা বরাবরই আমাকে আন্দোলিত করে।

সালমান শাকিল

সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় পারিশ্রমিক নামমাত্র

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকতার প্রাথমিক জ্ঞান লব্ধ করেন। এই জায়গাটা অনেক কঠিন ও দায়িত্বের। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একটি সংবাদ যখন প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যায় তখন একজন সাংবাদিককে বিভিন্ন ধরনের তকমা পেতে হয়। তাকে হতে হয় হলুদ সাংবাদিক কিংবা জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট। ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা নামমাত্র পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। যা তাদের পরিশ্রমের তুলনায় অনেক নগণ্য।

ইমরান হোসাইন

সভাপতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close