reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৩ অক্টোবর, ২০২১

ফার্মেসি ও ফার্মাসিস্ট শিক্ষার্থীদের ভাবনা

দোকানে ওষুধ বিক্রি করে বা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করে যারা তাদের বলা হয় ফার্মাসিস্ট। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটটা এর ভিন্ন কিছু নয়। খুব কম মানুষই জানে এর বাইরেও ফার্মাসিস্টদের আরো বহুমুখী ক্ষেত্র আছে। দেশ এগোচ্ছে, এখন সময় আরেকটু বিশদভাবে জানার। ‘ফার্মেসি ও ফার্মাসিস্ট’ নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদের পাঠকদের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

এখনো ফার্মেসি সাবজেক্ট সম্পর্কে তেমন জানেনই না

আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো ফার্মেসি সাবজেক্ট সম্পর্কে তেমন জানেনই না। অনেকের ধারণা ফার্মেসিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বুঝি ওষুধের দোকান দেয় সবাই। অনেকে আবার একটু বেশিই এই সাবজেক্টটাকে মাথায় তুলে ফেলেন। গ্র্যাজুয়েশন করতে করতে আমাদের অনেক স্বপ্ন থাকে কিন্তু দিন শেষে দেখা যায় আমাদের ফার্মাসিস্টদের চাকরির ক্ষেত্র খুবই সামান্য। বর্তমানে ফার্মেসি সবার কাছে একটা সুপরিচিত বিষয়। প্রতি বছর একসঙ্গে অনেক গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট বের হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এইজন্য পর্যাপ্ত চাকরি ক্ষেত্রের অভাবে বেকার ফার্মাসিস্টের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে আসলেই ওষুধের দোকান দিয়েই ফার্মাসিস্টদের চলতে হবে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবের জন্য ছেলে-মেয়েরাও আস্তে আস্তে ফার্মেসি সাবজেক্ট নিয়ে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বাংলাদেশের ওষুধশিল্পও আস্তে আস্তে তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।

তানজিলুর রহমান

শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

ফার্মাসিস্টরা যথাযথ মর্যাদার অধিকারী হোক

ফার্মেসিতে পড়াশোনা শুরু করার আগে থেকেই শুনতাম পড়াশোনা শেষ করার আগেই চাকরি হাতের মুঠোয় থাকবে। কিন্তু যখন পড়াশোনা শুরু করলাম দেখলাম অধিকাংশেরই ধারণা মেডিসিনের দোকানদার হব। বিষয়টা ভালো, গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনো অধিকাংশের চিন্তাভাবনায় অনেক গোড়ামি দেখেছি। ওষুধ নিয়ে জানাটা যে কত গুরুত্বপূর্ণ এটা এখনো মানুষকে বোঝানো সম্ভব হয়নি। এই যে প্রতি বছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট বের হচ্ছে, দিন শেষে দেখা যাচ্ছে ফার্মাসিস্ট না হয়ে বাধ্য হয়ে অন্য সেক্টরে সুইচ করতে হচ্ছে। ফার্মেসি বিভিন্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের চালু হলেও, এই বিষয় নিয়ে পড়ার যতটা ঝোঁক, সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো না পাওয়ার কারণে এই আগ্রহ ঠিক ততটাই কমে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্টরা সমাদৃত হলেও আমাদের দেশে এখনো স্বাস্থ্য খাতে সরাসরি সংযুক্ত নয়। তাই এ দিবসে একমাত্র প্রত্যাশা হলো উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও ফার্মাসিস্টরা যথাযথ মর্যাদার অধিকারী হোক।

সোহানা ফেরদৌস

শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

মেডিকেল টিমে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব বাড়ানো

ফার্মাসিস্টরা স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী যারা ওষুধ ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং সরবরাহের সঠিক পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ। ফার্মাসিস্টরা নতুন ওষুধের গবেষণা ও পরীক্ষায়ও অবদান রাখে। তারা ফার্মেসি, মেডিকেল ক্লিনিক, গবেষণা খাতে, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। ডাক্তার এর কাছ থেকে শারীরিক অসুস্থতা জানার পর কোনো ওষুধ কতটুকু পরিমাণ এ কীভাবে গ্রহণ করা যায় কিংবা অন্যান্য সাইড ইফেক্ট থাকলে কোন ধরনের ওষুধ কতটুকু গ্রহণ করতে হবে এ বিষয়ে সূক্ষ্ম ধারণা পাওয়া যায় একজন ফার্মাসিস্ট থেকে। থেরাপিউটিক পণ্যগুলোর কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা। মেডিকেল টিমে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব বাড়ানো। দিন শেষে ওষুধের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের স্বস্তির এজেন্ট হওয়া একটি আনন্দদায়ক অনুভূতি। দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হোক ফার্মাসিস্টরা- এটাই প্রত্যাশা।

ইসনাইন জান্নাত ইশা

শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

ফার্মেসি পেশায় কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান

স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ ওষুধশিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ফার্মাসিস্টরা। ফার্মেসি পেশায় কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং সাধারণ মানুষকে এ পেশা নিয়ে সচেতন করতেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় দিবসটি। মানসম্মত ওষুধ রোগীর কাছে সরবরাহ করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যায় এ পেশার মানুষ। নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে রপ্তানিকারক শিল্প হিসেবে ওষুধশিল্প কে রপ্তানিকারক শিল্প হিসেবে সমাদৃত করেছে যে কারিগর রা তারাই অনেকক্ষেত্রে পর্দার আড়ালেই রয়ে যায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে হসপিটালে ফার্মাসিস্ট নেই যা আমাদের জন্য হতাশাজনক। অচেনা যোদ্ধার মতো করোনাকালীন সংকটপূর্ণ অবস্থাতেও তারা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সার্বক্ষণিক ফার্মাসিস্টদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত হোক এবং স্বাস্থসেবা খাতে সরাসরি গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের যুক্ত করা হোক, তাহলেই তাদের মাধ্যমে আরো বেশি সমাদৃত হবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা।

নাজিয়া আফরিন

শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘হসপিটাল ফার্মাসিস্ট’ চালু করা হোক

ফার্মেসি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। যেখানে ওষুধের আবিষ্কার, ডিজাইন, প্রস্তুতি, মানোন্নয়ন, নিরাপদ ব্যবহার এসব বিষয় অন্তর্ভুুক্ত থাকে। বর্তমানে দেশে ৪০টিরও বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফার্মেসি বিভাগ চালু আছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৬০০০ ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তারা তাদের সঠিক কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছে না। আর পারবেই বা কীভাবে, যেখনে ফার্মেসি বলতে আমরা বুঝি ওষুধের দোকানদার কিংবা ওষুধ শিল্প-কারখানায় কাজ করা। আর স্বাস্থখাতের গুরুত্বপূর্ণ এই পেশার প্রতি আমাদের এই অবহেলাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো ভবিষ্যৎ চিন্তা না করেই অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ওষুধগুলো আমরা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সেবন করছি, মানছি না কোনো স্বাস্থ্যোপদেশ। যার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্স ব্যাকটেরিয়াগুলো দিন দিন সক্রিয় হয়ে উঠছে। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক অর্থাৎ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ক্ষেত্রেই উচিত ‘হসপিটাল ফার্মাসিস্ট’ চালু করা। এতে করে একদিকে যেমন ফার্মাসিস্টরা তাদের যোগ্য সম্মান পাবে; পাশাপাশি আমাদের ভগ্ন স্বাস্থ্য খাতও অনেকটা সবল হবে।

ববিতা মন্ডল সোমা

শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের অবহেলার সুযোগ নেই

একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ করার জন্য ডাক্তার নার্সদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে ফার্মাসিস্টদের। অজানা কোনো কারণে বাংলাদেশে সর্বদা ফার্মাসিস্টরা সর্বদা অবহেলিত হয়ে আসছে আমাদের গতানুগতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের অবহেলার সুযোগ নেই। শুধু ওষুধশিল্পে ফার্মাসিস্টদের আটকে রেখে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি হয় না। এই জন্য ফার্মাসিস্টদের হসপিটাল ও মডেল ফার্মেসিতে কাজের সুযোগ করে দিবে। হসপিটাল ও কমিউনিটি ফার্মাসিস্টরা যেভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অবদান রাখতে পারবে অথবা স্বাস্থ্যসেবার যে পরিবর্তন আনবে তা বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান পদ্ধতিতে সম্ভব নয়। বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফার্মাসিস্টদের আরো সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হোক- এটাই এবারের বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসে আমার চাওয়া।

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া

শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close